মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সেখানে কর্মরত প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের ওপর। এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি কর্মীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গালফ কো–অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)ভুক্ত ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান—এ বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এসব দেশের মধ্যে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন।
আকাশসীমা বন্ধ, স্থবির জনশক্তি রপ্তানি
চলমান সংঘাতের জেরে কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ছুটি কাটাতে দেশে এসে অনেক কর্মী এখন ফেরত যেতে পারছেন না। আবার কারও কারও এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত জটিলতা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাতার সরকার এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং এর জন্য কোনো ফি দিতে হবে না বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
রেমিট্যান্সে ধাক্কার আশঙ্কা
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিসিসিভুক্ত ছয় দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ মিশনগুলো সক্রিয় রয়েছে। ভিসা জটিলতা ও ফ্লাইট পুনর্বিন্যাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শ্রমবাজার, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী আয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।


.jpg)








