বাংলাদেশ
দূরত্বে থেকেও উৎসব: স্মৃতি, শূন্যতা আর মিশ্র অনুভূতির গল্প

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা অসংখ্য মুহূর্ত। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আসে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে। তবে এই উৎসবের আনন্দ প্রবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা—যেখানে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে দূরত্বের বেদনা, স্মৃতির টান এবং এক ধরনের নিঃসঙ্গতা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে ঈদ উদযাপন করলেও, তাদের অনুভূতির গভীরে থাকে পরিবারকে ঘিরে এক অদৃশ্য শূন্যতা। এমনই চারজন শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে প্রবাসের ঈদের বাস্তব চিত্র।
জাপানে অধ্যয়নরত আবিদের কাছে ঈদ মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ছোট পরিসরে আনন্দ খোঁজার চেষ্টা। একসাথে রান্না, আড্ডা—সবই থাকে, তবুও কোথাও যেন অপূর্ণতা থেকে যায়।
দেশের ঈদের সকাল, পরিবারের সঙ্গে নামাজ, কোলাকুলি আর মায়ের হাতের রান্না—এসব স্মৃতি বারবার মনে নাড়া দেয় তাকে। প্রবাসে ঈদের দিন অনেকটা সাধারণ দিনের মতো কেটে যায়; ক্লাস ও কাজের ব্যস্ততায় উৎসবের পূর্ণতা পাওয়া যায় না।
সিউলে থাকা আনিকা তাজনিমা এশার কাছে ঈদ এক গভীর আবেগের নাম। বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট পরিসরে ঈদ উদযাপন করলেও, পরিবারের অভাবটা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
একজন একমাত্র মেয়ে হিসেবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর অভ্যাস থাকায়, দূরে থাকার কষ্ট আরও তীব্র। ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি—নতুন জামা, আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়া, বাবা-মায়ের সান্নিধ্য—সবই এখন মধুর অথচ বেদনাময় স্মৃতি। তবুও তার স্বপ্ন, একদিন আবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর।
সিডনিতে থাকা তাহমীদ হোসেনের কাছে ঈদ মানে মিশ্র অনুভূতির দিন। নামাজ, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, কখনো ঘুরতে যাওয়া—এসবের পাশাপাশি দিনের বড় অংশ কেটে যায় পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে।
অস্ট্রেলিয়ায় ঈদের উৎসব মূলত মুসলিম কমিউনিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পুরো দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ না থাকায় ঈদ অনেকটাই ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। ব্যস্ত জীবন আর ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে নিজের মতো করেই তৈরি করতে হয় ঈদের আনন্দ।
কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এম মিজানুর রহমান জানান, প্রবাসে ঈদ মানেই এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি। মসজিদে নামাজ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—সবই থাকে, কিন্তু পরিবারের শূন্যতা পূরণ হয় না।
তবে প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজন করা ঈদ ফিস্ট ও মিলনমেলা কিছুটা হলেও সেই অভাব কমিয়ে দেয়। এই মিলনমেলায় এক ধরনের পারিবারিক আবহ তৈরি হয়, যা প্রবাসের নিঃসঙ্গতাকে সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয়।
প্রবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি আবেগ, স্মৃতি ও প্রত্যাশার এক মিশ্র অভিজ্ঞতা।
বন্ধুদের সঙ্গে ছোট ছোট আয়োজন, কমিউনিটির মিলনমেলা কিংবা ভার্চুয়াল যোগাযোগ—সবকিছু মিলিয়েও পরিবারের সঙ্গে কাটানো ঈদের সেই পরিপূর্ণতা পাওয়া যায় না। তবুও তারা আশায় থাকে—একদিন আবার প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে ঈদ উদযাপন করবে।
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করল ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)
দেশের ডিজিটাল গণমাধ্যম খাতের অন্যতম সংগঠন ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ) সফলভাবে তিন বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডিএমএফ-এর সদস্যবৃন্দ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু, এবং এর অগ্রগতি অনেকাংশেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

রিমার্কের ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কারের সুযোগ
হোমকেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড ব্যবসায়িক অংশীদার ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন আপনজন-০১ চালু করেছে। ৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত রিটেইলার বা বিক্রেতারা ন্যূনতম ২ হাজার টাকার রিমার্ক পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কার জয়ের সুযোগ পাবেন।

মুজিবুল হকের উত্থানের নেপথ্যে কী? ‘আমেরিকান ডাক্তার’ পরিচয়, চিকিৎসা সাম্রাজ্য ও বিতর্কের অনুসন্ধান
রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির শুক্রাবাদে অবস্থিত “আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্টেম সেল থেরাপি, অল্টারনেটিভ মেডিসিন এবং ফাংশনাল মেডিসিনের আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ড. এম মুজিবুল হক নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকান বোর্ড সার্টিফায়েড ডাক্তার’, ‘ফাইভ স্টার প্রফেসর’ এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার করে আসলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তার পরিচয়, চিকিৎসা যোগ্যতা, স্টিমসেল ব্যবসা এবং রোগীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্ময়কর সব প্রতারণার তথ্য।







