বাংলাদেশ


দূরত্বে থেকেও উৎসব: স্মৃতি, শূন্যতা আর মিশ্র অনুভূতির গল্প


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার

দূরত্বে থেকেও উৎসব: স্মৃতি, শূন্যতা আর মিশ্র অনুভূতির গল্প

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা অসংখ্য মুহূর্ত। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আসে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে। তবে এই উৎসবের আনন্দ প্রবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা—যেখানে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে দূরত্বের বেদনা, স্মৃতির টান এবং এক ধরনের নিঃসঙ্গতা।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে ঈদ উদযাপন করলেও, তাদের অনুভূতির গভীরে থাকে পরিবারকে ঘিরে এক অদৃশ্য শূন্যতা। এমনই চারজন শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে প্রবাসের ঈদের বাস্তব চিত্র।

 

জাপানে অধ্যয়নরত আবিদের কাছে ঈদ মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ছোট পরিসরে আনন্দ খোঁজার চেষ্টা। একসাথে রান্না, আড্ডা—সবই থাকে, তবুও কোথাও যেন অপূর্ণতা থেকে যায়।

 

দেশের ঈদের সকাল, পরিবারের সঙ্গে নামাজ, কোলাকুলি আর মায়ের হাতের রান্না—এসব স্মৃতি বারবার মনে নাড়া দেয় তাকে। প্রবাসে ঈদের দিন অনেকটা সাধারণ দিনের মতো কেটে যায়; ক্লাস ও কাজের ব্যস্ততায় উৎসবের পূর্ণতা পাওয়া যায় না।

 

সিউলে থাকা আনিকা তাজনিমা এশার কাছে ঈদ এক গভীর আবেগের নাম। বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট পরিসরে ঈদ উদযাপন করলেও, পরিবারের অভাবটা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।

 

একজন একমাত্র মেয়ে হিসেবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর অভ্যাস থাকায়, দূরে থাকার কষ্ট আরও তীব্র। ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি—নতুন জামা, আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়া, বাবা-মায়ের সান্নিধ্য—সবই এখন মধুর অথচ বেদনাময় স্মৃতি। তবুও তার স্বপ্ন, একদিন আবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর।

 

সিডনিতে থাকা তাহমীদ হোসেনের কাছে ঈদ মানে মিশ্র অনুভূতির দিন। নামাজ, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, কখনো ঘুরতে যাওয়া—এসবের পাশাপাশি দিনের বড় অংশ কেটে যায় পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে।

 

অস্ট্রেলিয়ায় ঈদের উৎসব মূলত মুসলিম কমিউনিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পুরো দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ না থাকায় ঈদ অনেকটাই ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। ব্যস্ত জীবন আর ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে নিজের মতো করেই তৈরি করতে হয় ঈদের আনন্দ।

 

কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এম মিজানুর রহমান জানান, প্রবাসে ঈদ মানেই এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি। মসজিদে নামাজ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—সবই থাকে, কিন্তু পরিবারের শূন্যতা পূরণ হয় না।

 

তবে প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজন করা ঈদ ফিস্ট ও মিলনমেলা কিছুটা হলেও সেই অভাব কমিয়ে দেয়। এই মিলনমেলায় এক ধরনের পারিবারিক আবহ তৈরি হয়, যা প্রবাসের নিঃসঙ্গতাকে সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয়।

 

প্রবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি আবেগ, স্মৃতি ও প্রত্যাশার এক মিশ্র অভিজ্ঞতা।

 

বন্ধুদের সঙ্গে ছোট ছোট আয়োজন, কমিউনিটির মিলনমেলা কিংবা ভার্চুয়াল যোগাযোগ—সবকিছু মিলিয়েও পরিবারের সঙ্গে কাটানো ঈদের সেই পরিপূর্ণতা পাওয়া যায় না। তবুও তারা আশায় থাকে—একদিন আবার প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে ঈদ উদযাপন করবে।

 


জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সিসিটিভি ফুটেজে ট্রাফিক মামলা: প্রতারণা থেকে সতর্ক করল ডিএমপি

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে মামলা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ধরনের মামলার নামে কোনো অসাধু চক্র অর্থ দাবি করলে তা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,১৬৬

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই সময়ে নতুন করে ১,১৬৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মে মাসে এলপিজির দাম অপরিবর্তিত, অটোগ্যাসে সামান্য বৃদ্ধি

মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার (আজ) সংস্থাটির এক সিদ্ধান্তে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

উখিয়ায় পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের ‘স্থায়ী’ ঘর নির্মাণ, স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে ইট ও লোহার কাঠামোর ঘর নির্মাণের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী শেডে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের জন্য হঠাৎ টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।