অপরাধ
আমিরাতপ্রবাসীদের ঠকিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ চক্র সক্রিয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির নামে জাল সনদ তৈরি করা হতো, যা অনলাইনে প্রাথমিক যাচাইয়ে বৈধ বলে প্রতীয়মান হলেও আন্তর্জাতিক ভেরিফিকেশনে ধরা পড়ে জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশ কিছু চাকরির ক্ষেত্রে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার ফলে অনেক প্রবাসী দ্রুত শিক্ষাগত সনদ সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে পড়েন। এই সুযোগে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার তালতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. নয়া মৃধ্যার ছেলে মো. রিয়াজ (৪০) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সনদ, নম্বরপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন এবং অনলাইনে যাচাইয়ে তথ্য মিলবে বলে নিশ্চয়তা দিতেন। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীরা এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটাবেজে কাছাকাছি নামের প্রকৃত শিক্ষার্থী খুঁজে বের করা হতো, এরপর সেই শিক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির নামে সনদ প্রস্তুত করা হতো। ফলে অনলাইনে সীমিত অনুসন্ধানে তথ্য মিললেও অ্যাপোস্টিল ও আন্তর্জাতিক ভেরিফিকেশনের সময় আবেদনকারীর নাম, পিতামাতার নাম ও জন্মতারিখ প্রকৃত শিক্ষার্থীর তথ্যের সঙ্গে অমিল ধরা পড়ে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জালিয়াতির বিষয় জানানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতেন এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতেন। অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের পরও কেউ কেউ কোনো সমাধান পাননি, যার ফলে অনেকের চাকরির সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার একটি পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত। মামলাগুলোর বর্তমান বিচারিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মো. রিয়াজ প্রতারণার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন, তবে মামলা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি নির্লিপ্ত মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষা ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে শিক্ষাব্যবস্থার তথ্য নিরাপত্তা ও সনদের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশগামী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
কমিশন ছাড়া নড়ত না ফাইল, সওজ প্রকৌশলীর সিন্ডিকেটে জিম্মি পুরো ঠিকাদার মহল
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধান চললেও এখনো তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল
ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।








