অপরাধ


হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি


দুরবীন ডেস্ক

মোঃ বিল ইয়ানূর তালুকদার

প্রকাশিত:২৪ মে ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

কোরবানির পশুর হাটে ঢুকলেই যেন শুরু হয় এক ভিন্নধর্মী যুদ্ধ। সরকার নির্ধারিত হাসিলের বাহিরে প্রকাশ্যেই আদায় করা হচ্ছে গরুপ্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা। কোথাও খুঁটির ভাড়া, কোথাও প্যান্ডেল খরচ, আবার কোথাও নাম লেখানোর অজুহাতে কেটে নেওয়া হচ্ছে টাকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির হাট ঘুরে দেখা গেছে, ইজারাদারদের কর্মীরা রীতিমতো সংঘবদ্ধভাবে এসব অর্থ তুলছেন। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই অতিরিক্ত টাকার নেই কোনো রসিদ নেই কোনো হিসাব। 

 

হাটে ঢোকার পর থেকেই শুরু হয় এ কের পর এক চাপ। টাকা না দিলে মিলছে না জায়গা, দেওয়া হচ্ছে না গরু বাঁধতেও, এমনকি দেখানো হচ্ছে নানা ঝামেলার ভয়ও।

 

হাটে গরু নিয়ে আসা খামারি, গৃহস্থ আর ব্যাপারীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হাসিল থাকলেও বাস্তবে তা মানছে না কেউই। অনেক জায়গায় আবার ৫০০ টাকার সরকারি রেট দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ প্রতিবাদ করলে বলা হচ্ছে, “বাড়তি খরচ আছে, দিতেই হবে।” সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো হিসাবও থাকছে না। শুধু হাটেই নয়, পশুবাহী ট্রাক রাস্তায় নামার পর শুরু হয় আরেক দফা ভোগান্তি। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক থামিয়ে নানা অজুহাতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে। মামলা, কাগজপত্র কিংবা চেকপোস্টের ভয় দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে নগদ অর্থ।

 

ফলে শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতার ওপর। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একটি ট্রাক ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে শুধু অতিরিক্ত খরচেই কয়েক হাজার থেকে পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। পথে পথে থামানো, চাঁদা দাবি আর অযথা হয়রানিতে আতঙ্ক নিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই অভিযোগ করেন, টাকা না দিলে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রাখা হয় গাড়ি।

 

প্রশ্ন উঠেছে কোরবানির পশুর হাটে এই সিন্ডিকেটের শেষ কোথায়, আর সাধারণ মানুষই বা কতদিন এমন নীরব লুটপাটের শিকার হবে?

 

 


জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।