বাংলা সিনেমার পালে লেগেছে নতুন হাওয়া। যার প্রভাব দেখা যাবে সেপ্টেম্বর মাস জুড়েও। এ মাসে মুক্তির জন্য ৯টি সিনেমার আবেদন জমা পড়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে।
একের পর এক ছবি মুক্তির ঘোষণাকে ভীষণ ইতিবাচকভাবে দেখছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। অনেকে বলছেন, বাংলা সিনেমার চাকা ঘুরতে শুরু করেছে।
প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির তালিকা অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় রকিবুল আলম রকিবের ‘ভাইয়ারে’।
৯ সেপ্টেম্বর থাকবে আবুল কালাম আজাদের ‘ও মাই লাভ’ ও শামীম আহমেদ রনীর ‘লাইভ’, ১৬ সেপ্টেম্বর মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ ও সাইদুল ইসলাম রানার ‘বীরত্ব।
২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’ আর দীপংকর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন। ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে রফিক শিকদারের ‘বসন্ত বিকেল’ ও ডায়েল রহমানের ‘ঈশা খাঁ।
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বেশ কয়েকটি সিনেমা নিয়ে আগ্রহী দর্শক। বিশেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বরের দুটো সিনেমা ইতোমধ্যেই তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে।
"অপারেশন সুন্দরবন'এ আছে রিয়াজ, সিয়াম আহমেদ, তাসকিন রহমান, নুসরাত ফারিয়াসহ একঝাঁক তারকা। সিনেমাটির পরিচালক ‘ঢাকা অ্যাটাক’খ্যাত দীপংকর দীপন।
সুন্দরবনে র্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে নির্মিত সিনেমা এটি। ছবিটির ট্রেলার দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে বিউটি সার্কাসে জয়া আহসানের সঙ্গে দেখা যাবে ফেরদৌস আহমেদ, তৌকীর আহমেদ ও এবিএম সুমনকে।
এছাড়া আলোচনায় আছে থ্রিলারধর্মী সিনেমা ‘লাইভ’। এতে তিন নায়কের বিপরীতে দেখা যাবে মাহিয়া মাহিকে।
তবে এ মাসে আরো কিছু সিনেমার মুক্তির কথা শোনা গেলেও মুক্তি পাচ্ছে না সেগুলো। পরপর কয়েকটি সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যে আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে ঢালিউড।
হলগুলোতে দর্শকের জোয়ার প্রযোজক ও পরিচালকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাই দীর্ঘদিনের জমে থাকা সিনেমা মুক্তি দিতে উৎসাহ পাচ্ছেন তারা।
অথচ মাস কয়েক আগেও চিত্র ছিলো ভিন্ন। বাংলা সিনেমা নিয়ে হতাশ ছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া করোনা, প্রেক্ষাগৃহের অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাই সিনেমা ছিল স্থবির।
এতে আটকে যায় বড় বাজেটের প্রায় দেড় ডজন সিনেমা। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দর্শক আসবেন কি না, এমন শঙ্কায় মুক্তি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন পরিচালকরা।
তবে এ দৃশ্য বদলে যায় গত ঈদ থেকে। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘শান’ ও ‘গলুই’ দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায় দেশীয় সিনেমার ঘুরে দাঁড়ানোর।
এরপর ঈদুল আজহায় বাংলা সিনেমা নিয়ে রীতিমতো উন্মাদনা তৈরি হয়। বিশেষ করে 'পরাণ' আর 'হাওয়া' মুক্তির পর।
এসব ছবি দেখতে বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে ভিড় করতে থাকেন দর্শক। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়, কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্সে প্রথম দিনের টিকিট অগ্রীম বিক্রি হয়ে যায়।
এমনকি বাংলা সিনেমা নিয়ে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহের কারণে বহুল আলোচিত একটি হলিউড ছবির প্রদর্শনীও স্থগিত করা হয়।
বছর শেষ হতে বাকি এখনও ৪ মাস। এ সময়কে ‘সিনেমার সময়’ বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে সতর্ক থাকতে হবে।
পরপর ভালো ছবি না দিলে দর্শক আবার হলবিমুখ হতে পারেন। মানসম্মত সিনেমা মুক্তি পেলে বাংলা সিনেমার নতুন এ জোয়ার চলবে বিরামহীন, এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে আগেই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। সেক্ষেত্রে দর্শক ধরে রাখতে সারাদেশের বন্ধ হলগুলো সংস্কার ও উন্নত করার তাগিদ প্রযোজক ও পরিবেশকদের।