অর্থনীতি


১৯৭৯–এর পর সোনার দামে সর্বোচ্চ উল্লম্ফন: ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

১৯৭৯–এর পর সোনার দামে সর্বোচ্চ উল্লম্ফন: ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ

১৯৭৯ সালের পর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সময় পার করছে সোনার বাজার। চলতি ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম বেড়েছে ৭১ শতাংশ, যা গত চার দশকের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির অন্যতম রেকর্ড। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

 

এর আগে এক বছরে সবচেয়ে বেশি সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। সে সময় মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইরানের ইসলামি বিপ্লব, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সোনার দাম এক বছরে ১২৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। তখন বছরের শুরুতে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ছিল ২২৬ ডলার, যা বছরের শেষে গিয়ে দাঁড়ায় ৫১২ ডলারে।

 

৪৬ বছর পর আবারও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সোনার বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে আউন্সপ্রতি সোনার আগাম দাম ছিল ২ হাজার ৬৪০ ডলার, যা বছরের শেষ দিকে এসে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্কনীতি, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাংকার ঘিরে নতুন উত্তেজনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকিয়েছে।

 

বিনিয়োগকারীদের ধারণা, মূল্যস্ফীতি বাড়ুক বা কমুক, ডলারের মান ওঠানামা করুক সোনা দীর্ঘমেয়াদে মূল্য ধরে রাখে। এ কারণেই অনিশ্চিত সময়ে সোনার চাহিদা বাড়ে।

 

চলতি বছর সোনার মুনাফা অন্য সব বড় বিনিয়োগ মাধ্যমকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে ২০২৫ সালে সোনার দাম বেড়েছে ৭১ শতাংশ, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ। আগের বছর ২০২৪ সালেও সোনার আগাম লেনদেনে মুনাফা ছিল ২৭ শতাংশ, যা এসঅ্যান্ডপি ৫০০–এর ২৪ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়েও বেশি।

 

বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার কমানো ও মার্কিন ডলারের দুর্বলতাও সোনার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

 

সোনার মূল্যবৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক সোনা ক্রয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতিবছর এক হাজার টনের বেশি সোনা কিনেছে, যেখানে আগের এক দশকে এই পরিমাণ ছিল বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ টন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ও ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা কমাতে চীনসহ একাধিক দেশ কেন্দ্রীয় রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়াচ্ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ডলারভিত্তিক সম্পদ জব্দ করায় অনেক দেশ বিকল্প নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছে।

 

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমান সোনা কেনার পেছনে মূল চালিকা শক্তি হলো ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার বিভাজন। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সম্পর্কিত

অর্থনীতিসোনা

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

আজকের স্বর্ণের দাম: ০৭ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।

৪ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

২ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম কমার পর আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

৬৩ পয়সার লিজ প্রস্তাবে ৪৪ কোটি টাকা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছিলেন বশির

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।