অর্থনীতি


যেসব খাত নির্ভর করছে শুধু তেলের উপরই!


দুরবীন ডেস্ক

মোঃ বিল ইয়ানূর তালুকদার

প্রকাশিত:২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার

আপডেট:২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার

যেসব খাত নির্ভর করছে শুধু তেলের উপরই!

বার্ষিক ৮০,০০০ কোটি থেকে ১,২০,০০০ কোটি টাকার বাংলাদেশী বাজার নির্ভর করছে জ্বালানি তেলের উপর। পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা থেকে কৃষি, সবখানেই জ্বালানি তেল বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে। এমনকি আপনার যাতায়াতের বাস থেকে শুরু করে ঘরের বাজারে ডিমের দামও নির্ভর করে এই জ্বালানি তেলের উপরেই। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের জ্বালানি খাতেও পরিবর্তন, প্রভাব ফেলেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

 

দেশে প্রতি বছর প্রায় ৭–৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, যা পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও কৃষি—সব খাতেই অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে প্রায় ৪০–৫০% ব্যবহৃত হয় পরিবহন খাতে, ২০–৩০% বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং বাকিটা শিল্প ও কৃষিতে।

 

মূলত অপরিশোধিত তেল শোধনের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় জ্বালানি তেল। শোধনাগারে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্র্যাকশনাল ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়ায় এই তেলকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়। হালকা অংশ থেকে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যায়, আর ভারী অংশ থেকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াই জ্বালানি খাতের ভিত্তি।

 

এই খাতের প্রভাব প্রায় ২–৩ ট্রিলিয়ন টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত, যা এটিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে। বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ প্রায় সব ধরনের ভারী যানবাহন ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে সেচ পাম্প ও যন্ত্রপাতি চালাতেও ডিজেল অপরিহার্য। তাই ডিজেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

 

ফার্নেস অয়েল বা হেভি ফুয়েল অয়েল মূলত শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। স্টিল, সিমেন্ট ও বড় কারখানাগুলোতে এটি বয়লারের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

 

২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর নতুন মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনুযায়ী, ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার। যা সরাসরি পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খাতে প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

 

বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁক বাড়লেও বাংলাদেশ এখনো তেলনির্ভর। তবে দীর্ঘমেয়াদে সৌরশক্তি, গ্যাস ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং জ্বালানি খাত আরও স্থিতিশীল হবে।

 

এ থেকেই বোঝা যায় জ্বালানি তেল শুধু একটি পণ্য নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। এর দাম ও সরবরাহের পরিবর্তন পুরো দেশের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এই খাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সম্পর্কিত

জ্বালানি তেল

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বদলাচ্ছে রেমিট্যান্সের ধারা: গ্রামবাংলায় নতুন দিগন্ত খুলছে ব্র্যাক ব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি অসংখ্য পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের কারণে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছিল না।

ভোজ্যতেলের দাম আপাতত বাড়ছে না: নিশ্চিত করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে ভোজ্যতেলের দাম আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (১২ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ের গুরুত্বও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ রাখতে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান নির্ধারণ করা হয়।

জিএফআই প্রতিবেদন: ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।