বাংলাদেশ
ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে দ্রুত উদ্যোগ চাইলেন শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা কমে যেতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ড. শফিকুর রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি ব্যাংকটির মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মালিকানায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির মালিকানা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে ব্যাংকটিতে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হলেও অনেকেই তাতে অংশ নেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অতীতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও সেসবের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আরডিএস প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচি।
নিজেকে ব্যাংকটির একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও মতাদর্শের মানুষের প্রতিষ্ঠান। এর স্থিতিশীলতা রক্ষা করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে, যা নিয়ে গ্রাহক ও আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদানের কথা তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই আস্থায় কোনো ধরনের সংকট তৈরি হলে তা সামগ্রিক আর্থিক খাতকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ইসলামী ব্যাংককে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
সুনামগঞ্জ কারাগারে বন্দির মৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের
সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে আক্কাস আলী (৪৮) নামে এক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

স্টেডফাস্ট কুরিয়ারে পাঠানো ১৬ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার, আটক ২
রংপুরে বিশেষ অভিযানে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো ১৬ হাজার পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে পাঠানো চালানটির মূল নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীতে অনার স্মার্টফোনে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক
স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। তবে সামান্য অসাবধানতা কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে এই প্রয়োজনীয় ডিভাইসই মুহূর্তে ভয়ংকর বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের অন্তত চারটি স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে।

পেশাদারিত্ব ও কমপ্লায়েন্স সংকটে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিকস ও ই-কমার্স ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্টেডফাস্ট কুরিয়ার’-এর অভ্যন্তরীণ কমপ্লায়েন্স, করপোরেট অ্যাকাউন্টেবিলিটি এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি এক পিকআপ চালককে মারধরের অভিযোগে থানায় দায়ের করা এফআইআর বা পুলিশ কেসের বর্তমান অবস্থা, অভিযুক্তদের শাস্তির পরিধি এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লঙ্ঘন এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাজনিত সংকটের জেরে ই-কমার্স মার্চেন্টদের মধ্যেও কোম্পানিটির সাথে কাজ করা নিয়ে বড় ধরনের স্বস্তি ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।








