বাংলাদেশ


বিচারাধীন তথ্য গোপন, জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

বিচারাধীন তথ্য গোপন, জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা

আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে নতুন করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় দেশের অন্যতম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। পরে অর্থটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জিপিএইচ ইস্পাতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।

 

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ঋণখেলাপি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে জিপিএইচ ইস্পাত আগে হাইকোর্টে রিট করেছিল। ওই রিটে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পেলেও পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেন। এরপরও বিচারাধীন বিষয়টি গোপন রেখে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে নিম্ন আদালতে নিষেধাজ্ঞা চায়। সেখানে ব্যর্থ হওয়ার পর একই বিষয়ে আবারও হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।

 

তিনি আদালতে আরও বলেন, ২৯টি ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের কাছে তথ্য গোপন করা বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ ধরনের আচরণের জন্য তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানান।

 

শুনানিকালে জিপিএইচ ইস্পাতের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাদের দাবি, আগের মামলার বিষয়ে তাদের মক্কেল প্রয়োজনীয় তথ্য জানাননি। তবে আদালত ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। আদালত রিট আবেদন খারিজ করে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেন এবং এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিচারাধীন বিষয় গোপন করে আদালতের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ ধরনের অসাধু প্রবণতা নিরুৎসাহিত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, জিপিএইচ ইস্পাতের বিপুল অঙ্কের ঋণসংক্রান্ত তথ্য গোপনের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলের নজরে আসার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নেন।

 

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের এ আদেশ বিচারিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যয়ের নির্দেশ এ আদেশকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

 

এ বিষয়ে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

উল্লেখ্য, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড ২০০৬ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় এর প্রধান উৎপাদন কারখানা এবং নগরের আসাদগঞ্জে নিবন্ধিত প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ২০১২ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।


সম্পর্কিত

জিপিএইচ ইস্পাতঋণখেলাপিআদালতের রায়

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

৬ মাসে ৬৪১ কোটি টাকা লোকসানে রূপালী ব্যাংক

রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা লোকসান করেছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুদ আয় কমে যাওয়া এবং আমানতের বিপরীতে সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার এই অবনতি হয়েছে।

ক্রিকেটার থেকে ‘শুটার’, চট্টগ্রামের অপরাধজগতে যেভাবে আলোচিত হয়ে উঠলেন ডেভিড ইমন

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে অনুশীলন শুরু করেছিলেন। তবে অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই পরিচয় ছাপিয়ে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি, একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বারবার উঠে আসে তার নাম।

ময়মনসিংহে স্বামী হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বহুল আলোচিত শফিকুল ইসলাম শপু হত্যা মামলায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির পদে থাকার আগে বা পরে অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনের মুখোমুখি না হলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা দায়িত্ব ছাড়ার পর কোনো অভিযোগ থাকলে সেসব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।