জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য এবারের সেপ্টেম্বর ব্যতিক্রমী। সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশন পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর সেই অধিবেশনেই বিশ্বনেতাদের সামনে প্রথমবার দাঁড়াতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অধিবেশনে সভাপতির আসন ও বক্তার ডায়াস, দুই জায়গাতেই বাংলাদেশের উপস্থিতি দেশের কূটনীতির জন্য একটি বিরল মুহূর্ত।

সফরসূচি

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইউএনবির বরাতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ নির্ধারিত রয়েছে। অল্পসংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে থাকবেন। সফরে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা ও জাতীয় অগ্রাধিকার বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

citytouch 728-X-90

প্রায় চার দশক পর সভাপতির আসনে বাংলাদেশি

ড. খলিলুর রহমান জুনে এই পদে নির্বাচিত হন, বাংলাদেশ থেকে তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে ৪১তম অধিবেশনে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এবারের অধিবেশনের মূল ভাবনা আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পরিবর্তনের যুগে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা। উদ্বোধনী বক্তব্যে নতুন সভাপতি মনে করিয়ে দেন, ১৯৪৫ সালের বাস্তবতা আর নেই, পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু, মানবাধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং জাতিসংঘ সংস্কার।

কঠিন সময়ের অধিবেশন

এবারের অধিবেশন বসছে চাপের মধ্যে। বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, সংস্থাটির আর্থিক টানাপোড়েন এবং নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের প্রস্তুতি, সব একসঙ্গে চলছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের সামনে দায়িত্বের পরিধিও স্বাভাবিকের চেয়ে বড়।

সাইডলাইনে ব্যস্ত কূটনীতি

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর এক ডজনের বেশি দ্বিপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। সম্ভাব্য তালিকায় আছেন প্রতিবেশী ভুটান ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধান, থাইল্যান্ড, কানাডা ও ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, কুয়েতের যুবরাজ এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভাষণে কী থাকতে পারে

অতীতের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্যে সাধারণত কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পায়: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ন্যায্য অর্থায়ন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের প্রথম ভাষণে এসব পুরোনো ইস্যুর পাশাপাশি নতুন কোনো পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা আসে কিনা, সেদিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

উপসাগরের প্রবাসীদের আগ্রহ

কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির আগ্রহ মূলত কুয়েত ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে। এই অঞ্চল বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের বড় উৎস। শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, কর্মীদের সুরক্ষা ও বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসে কিনা, সেটাই এখন প্রবাসীদের দেখার বিষয়।

বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র: ইউএনবি, জাতিসংঘ