আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভারত ও চীন এই চাপের সম্ভাব্য বড় লক্ষ্য হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়ায় ভারতের শোধনাগারগুলো এ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিষয়টি দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

citytouch 728-X-90

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মূল জায়গা হলো, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়ছে এমনটাই ওয়াশিংটনের যুক্তি। এ কারণেই রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রপ্তানি খাতে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ওষুধ, পোশাক, প্রকৌশল পণ্য, রাসায়নিক, ইলেকট্রনিকস ও গয়নার মতো বিভিন্ন খাত প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে পড়তে পারে।

তবে রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে দিলেও ভারতের সামনে রয়েছে আরেক ধরনের ঝুঁকি। বিকল্প উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি দামে অপরিশোধিত তেল কিনতে হলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের খরচে পড়তে পারে। পরোক্ষভাবে বাড়তে পারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও।

ভারত অবশ্য জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশটির অবস্থান হলো, জনগণের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও রাশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানির নীতি নিয়ে দিল্লি নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে।

তবে ১০০ শতাংশ শুল্কের ক্ষমতা পাওয়া মানেই ভারতের পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে এমন নয়। শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, কোন পণ্য এর আওতায় আসবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে কি না এসব সিদ্ধান্তের ওপর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো রাশিয়ার তুলনামূলক সস্তা তেল, যুক্তরাষ্ট্রের বড় রপ্তানি বাজার এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এই তিনটি বিষয়কে একই সঙ্গে সামাল দেওয়া। ফলে বিষয়টি শুধু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং ভোক্তা পর্যায়ের খরচেও।