মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজের আওতায় ইসরায়েলকে ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১৭ বোমা এবং ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অস্ত্রের অর্থায়ন হবে মার্কিন করদাতাদের অর্থে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কংগ্রেসনাল কমিটিগুলোকে এ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ধ্বংসক্ষমতায় ভয়াবহ এমকে-৮৪
প্রস্তাবিত চালানে থাকা এমকে-৮৪ পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অন্যতম শক্তিশালী প্রচলিত বোমা। এর বিস্ফোরণে ধাতব টুকরা দূরে ছিটকে পড়ার পাশাপাশি কংক্রিট ও ধাতব কাঠামো ভেদ এবং বড় ধরনের গর্ত তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মার্কিন পাইলটরা বোমাটিকে ‘হ্যামার’ বা হাতুড়ি নামে অভিহিত করেছিলেন।
বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২৪ সালে ইসরায়েলের কাছে এমকে-৮৪ বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজের আকার বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের আগের চালানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি ২০২৫ সালে প্রস্তাবিত ২৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজের চেয়েও বড়।
যুক্তরাষ্ট্রেই উঠেছে সমালোচনার ঝড়
নতুন অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার টাকার কার্লসন এই অস্ত্রের বিপুল ধ্বংসক্ষমতার সমালোচনা করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ব্যাপক বোমাবর্ষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ট্রাম্পের সাবেক সমর্থক ও সাবেক প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন করের অর্থ ও অস্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেইন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ভারী অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গাজায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন বেসামরিক হতাহতের ব্যাপকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের একটি তদন্তে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে—যদিও ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ ভারী বোমা সরবরাহের পরিকল্পনা গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।









