মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরবে জারি করা সতর্কতাগুলোর মধ্যে এবারের সতর্কতা ছিল সবচেয়ে বিস্তৃত। বিশেষ করে মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কায় এই যুদ্ধের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরা গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি হামলার দাবি করেছে। এর মধ্যে সোমবার একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলার কথাও জানায় তারা। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাব হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন অবকাঠামো ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ অচল করে দেওয়ার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থী একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, সোমবার সৌদি আরবে হুথিদের চালানো হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলেও হুথিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে দ্রুত অগ্রসর হয়ে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখের একটি দ্বীপ দখলের দাবি করে তারা। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি ও ইয়েমেনি বিমানবাহিনী তাদের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে।
ঐতিহাসিক লোহিত সাগরীয় বন্দর মোখার আশপাশের এলাকাতেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনি কর্মকর্তারা। গত সপ্তাহে হুথিরা বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে দাবি করা হয়েছিল।
তবে ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিরা বর্তমানে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের প্রায় পুরো অংশে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
এক ইয়েমেনি কর্মকর্তা বলেন, হুথিরা সামরিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরও জোরদার করে সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের নতুন একটি রণক্ষেত্র হিসেবে ইয়েমেন-সৌদি সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।









