পারিবারিক বিরোধ সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খুরুশকুলের বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।
মামলার দরখাস্ত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক একটি বিরোধের সমাধানের জন্য ওই নারী সিকান্দার আলীর কাছে যান। বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে তাকে কক্সবাজার শহরে আসতে বলেন সিকান্দার আলী।
অভিযোগে বলা হয়, একা আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় ওই নারী আরও দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় আসেন। সেখানে সিকান্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের টমটমে করে বাস টার্মিনাল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান এবং খাবার খাওয়ান।
পরে রেস্তোরাঁয় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয় জানিয়ে সিকান্দার আলী ওই নারীর সঙ্গে থাকা দুই নারীকে হোটেলের নিচে বসিয়ে রাখেন। এরপর ওই নারীকে একা নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলের ৪০৩ নম্বর কক্ষে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, হোটেল কক্ষে যাওয়ার পর সামাজিক বিরোধের বিষয়ে আলোচনা না করে সিকান্দার আলী তার প্রতি যৌন উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারী বাধা দিয়ে কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মামলার দরখাস্তে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ সময় ওই নারী ফিরে না আসায় সঙ্গে থাকা দুই নারী সন্দেহ করেন। তারা হোটেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে তারা ৪০৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে ওই নারীকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে সেখান থেকে বের করে আনেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই নারী স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করেছেন। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগের বিষয়ে সিকান্দার আলীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।









