এমবিবিএস তো দূরের কথা, এসএসসি সনদ ছাড়াই আপনিও বনে যেতে পারেন ডাক্তার; করতে পারেন নির্দ্বিধায় ডাক্তারি প্র্যাকটিস। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, চরম এই দুঃসহ নৈরাজ্যই এখন দেশের স্বাস্থ্য খাতের এক নগ্ন বাস্তবতা। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাগত জ্ঞান কিংবা বৈধ সনদ ছাড়াই কেবল জাল কাগজপত্রের জোরে ‘এমবিবিএস ডাক্তার’ সেজে দেশজুড়ে বসে আছেন হাজার হাজার ভুয়া চিকিৎসক। মফস্বল থেকে শুরু করে জেলা শহর কিংবা খোদ রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বারে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে চলছে এক নিষ্ঠুর মরণখেলা।



citytouch 728-X-90

দেশজুড়ে গড়ে ওঠা এই অপচিকিৎসার জাল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে তাতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে মনগড়া ডিগ্রি ও ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর। ঝকঝকে প্যাড আর চটকদার সাইনবোর্ডে বিভ্রান্ত হয়ে সরল বিশ্বাসে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা। ভুল ওষুধ ও ভুল নির্দেশনায় অসংখ্য রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, এমনকি ঘটছে অকাল মৃত্যুর ঘটনাও।



অথচ জনস্বাস্থ্যের এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখেও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বিএমডিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লোকবল সংকটের অজুহাতে কার্যত দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কঠোর নজরদারির অভাবেই এই ভুয়া চিকিৎসকের দল বছরের পর বছর প্রকাশ্যে রোগী দেখার দুঃসাহস দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।



আইনজ্ঞ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান আইনে ভুয়া চিকিৎসকদের জন্য যে নামমাত্র শাস্তির বিধান রয়েছে, তা এই মানবতাবিরোধী অপরাধের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।