সিয়াম আবদুল্লাহ, পটুয়াখালী প্রতিনিধীঃ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৩৬ ঘণ্টায় কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন নারী ও ১১ জন পুরুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে একসঙ্গে এত রোগী ভর্তির ঘটনা অতীতের তুলনায় বেশি।


citytouch 728-X-90

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত ৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আরও ছয়জন ভর্তি হন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ।


সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে সারি সারি মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। তরুণ ও মধ্যবয়সীদের পাশাপাশি নারী রোগীরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক-নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ স্যালাইনেরও ঘাটতি রয়েছে।


চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিযোগ, অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ক্লান্ত ও দুর্বল শরীরে ঘামে অস্বস্তি বাড়ছে। ফলে অনেকেই নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে রাখতে পারছেন না। প্রয়োজনের সময় চাদর ও মশারি পেতেও দেরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনোটি নষ্ট হলে নতুনটি পেতে সময় লাগে। এছাড়া হাসপাতাল থেকে সীমিত কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানান রোগীরা।


চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের দাবি, শুধু কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই নয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কলাপাড়া ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পট হয়ে উঠেছে।


কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগীরা কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। স্যালাইনেরও ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সবাইকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।