নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
প্রায় ৪৫ বছর পর দখলমুক্ত হলো নেত্রকোণার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রবেশপথ। দীর্ঘদিন ধরে প্রবেশপথের সামনে থাকা দুটি দোকানঘর অপসারণের মধ্য দিয়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে শহীদ মিনারের সামনের জায়গা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দোকানঘর দুটি ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক নূরুজ্জামান নূরুসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দখলমুক্ত করার বিষয়ে ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি দখলমুক্ত করা নেত্রকোনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। বিশেষ করে শহীদ দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এখানে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। কিন্তু জায়গাটি এমনিতেই তুলনামূলক ছোট হওয়ায় প্রবেশপথে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে অনেক সময় মানুষ আহতও হন।
প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে শহীদ মিনারের সামনে দুটি দোকান গড়ে উঠেছিল। শহীদ মিনারটি পৌরসভার তত্ত্বাবধানে থাকলেও খাতাপত্র অনুযায়ী জায়গাটির মালিক দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়। জায়গাটির ট্যাক্সসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও বিদ্যালয়ের অধীনেই রয়েছে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, আগের সরকারের সময়ে পৌরসভাকে দেখিয়ে জায়গাটি দখল করে ভোগ করা হচ্ছিল। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, জায়গাটি পৌরসভা অধিগ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে পৌরসভার মালিকানারও কোনো কাগজপত্র নেই। যাচাই-বাছাই শেষে জায়গাটির মালিকানা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দখলকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা এখানে ছিলেন, তাঁদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা শহীদ মিনারের স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলার পর স্বেচ্ছায় জায়গাটি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে আমাদের কোনো আইনি জটিলতায় যেতে হয়নি।
দোকানঘর অপসারণের পর শহীদ মিনারের সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, এখানে একটি সুন্দর গেট নির্মাণ করা হবে। শহীদ মিনারটি আরো কীভাবে সংস্কার ও আকর্ষণীয় করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং দর্শনার্থীরা যাতে সহজে প্রবেশ ও বের হতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি পৌর প্রশাসন দেখবে। পাশাপাশি জায়গাটির মালিকানা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সম্পৃক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে পৌর প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে শহীদ মিনারের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করবে।
দীর্ঘদিন পর শহীদ মিনারের প্রবেশপথ দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, এখন শহীদ মিনারের পরিবেশ আরো সুন্দর ও উন্মুক্ত হবে। জাতীয় দিবসগুলোতে নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগও বাড়বে।









