সরকারি হাসপাতালে একজন রোগী আসেন আস্থা ও কম খরচে চিকিৎসার প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু সেই রোগীকেই যদি সেবা পেতে দালালের দ্বারস্থ হতে হয়, বাড়তি টাকা দিতে হয় কিংবা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হয় তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্য কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
মিটফোর্ড হাসপাতাল ঘিরে নানা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দূরবীন নিউজ। অনুসন্ধানের শুরুতেই আনসার সদস্যদের বাধার মুখে পড়তে হয় প্রতিবেদক দলের। তবে সেই বাধা পেরিয়ে হাসপাতালের ভেতরে উঠে আসে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
মিটফোর্ড হাসপাতাল ঘিরে আমাদের অনুসন্ধানে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, বেড-স্ট্রেচার ও দ্রুত সেবা পেতে বাড়তি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। নার্সদের বিরুদ্ধে বকশিশ চাওয়ার অভিযোগ এবং সরকারি হাসপাতালে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর বিষয়টিও উদ্বেগজনক।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট অভিযোগের পাশাপাশি প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তই হওয়া উচিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি। আমাদের অনুসন্ধানে যেসব চিত্র ও তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলো প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, হাসপাতালের ভেতরে যদি নিয়মিতভাবে দালালচক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? একজন অসহায় রোগী হাসপাতালে এসে কার কাছে যাবে, কীভাবে সেবা নেবে এ সিদ্ধান্ত যদি দালালের হাতে চলে যায়, তাহলে সেটি শুধু অনিয়ম নয়; এটি মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিয়েও বড় প্রশ্ন।
সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকার পরও রোগীকে বাইরে পাঠানোর অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সরকারি অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হবে? এর পেছনে কোনো স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
আমাদের প্রত্যাশা, মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনবে। দালালমুক্ত পরিবেশ, স্বচ্ছ সেবা, কার্যকর যন্ত্রপাতি এবং রোগীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ সরকারি হাসপাতাল কোনো ব্যক্তির ব্যবসার জায়গা নয়। এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। জনগণের অর্থে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে জনগণই যেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার মূলনীতি।
চিকিৎসা মানুষের অধিকার, দালালের মাধ্যমে কেনাবেচার কোনো সুযোগ নয়। মিটফোর্ডে সেই অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
মামুনুর রশিদ খাঁন: সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত), দূরবীন নিউজ।









