সম্পাদকীয়

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা অনিশ্চয়তা, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি আহ্বান নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। “আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলে হয়তো এর গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে দেশের তরুণ সমাজকে রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার একটি প্রত্যাশা।

আমাদের দৃষ্টিতে, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের হাতে শুধু আগামী দিনের বাংলাদেশ নয়, বর্তমান বাংলাদেশকেও বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সেই শক্তিকে সঠিক পথে কাজে লাগানোর সুযোগ, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধ।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর অনেক তরুণ হয়তো নতুন করে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন। কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখছেন পরিচ্ছন্ন একটি শহরের, কেউ দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্রের, কেউ কর্মসংস্থানের, আবার কেউ এমন একটি বাংলাদেশের যেখানে যোগ্যতা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

citytouch 728-X-90

আমরা মনে করি, দেশ পুনর্গঠন মানে শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ নয়। একজন নাগরিক যখন যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, দায়িত্বশীলভাবে ভোট দেন, ঘুষকে না বলেন, নিজের কাজ সততার সঙ্গে করেন এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান করেন সেখান থেকেই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের শুরু।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেটিও আসলে একটি বড় নাগরিক আন্দোলনের সূচনা হতে পারে। একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা থেকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর, আর দায়িত্বশীল নাগরিক থেকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে।

তবে তরুণদের শুধু আহ্বান জানালেই হবে না। তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের তরুণরা শুধু পরিবর্তনের দর্শক হতে চায় না; তারা পরিবর্তনের অংশীদার হতে চায়। তাদের স্বপ্নকে যদি রাষ্ট্রের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে এই প্রজন্মই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান তাই শুধু তরুণদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য নয় এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

দেশটা আমাদের। পরিবর্তনের দায়িত্বও আমাদের।

আজ যে তরুণ নিজেকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন, তার সেই স্বপ্ন যেন আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের শক্তিতে পরিণত হয় এটাই প্রত্যাশা।