প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা প্রকৃত জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণে সারাদেশে অভিযান পরিচালনা এবং প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

citytouch 728-X-90

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদপুর মোহনা ও অন্যান্য প্রজননক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি প্রকৃত জেলেরা যাতে সরকারি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হওয়া উদ্বেগের বিষয়। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।