চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। ২২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই ও আগস্টে এসব ইলিশ দেশে আসে। তবে বন্দর পেরিয়ে যশোরের বাজারে যাওয়ার পর এসব মাছের একটি অংশ ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে মাছের প্রকৃত উৎস নিয়ে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়। অর্থাৎ দুই মাসের মোট আমদানির ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশই এসেছে আগস্টে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ইলিশ আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৯৮ গুণ।

ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম জানান, বেনাপোল দিয়ে আমদানি করা এসব ইলিশ ভারতীয় হিসেবেই নথিভুক্ত হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশ সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে আসে।

citytouch 728-X-90

তবে যশোরের স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া বড় আকারের কম দামের বিদেশি ইলিশের একটি অংশ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসছে। যদিও এ দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো নথি বা প্রমাণের কথা তারা জানাননি।

এর মধ্যে গত ২২ জুলাই সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৩৬০ কেজি ইলিশ আনার ঘটনা ধরা পড়ে। পরে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মাছগুলো জব্দ করে। তবে দুই মাসে বৈধভাবে আমদানি করা ইলিশের তুলনায় এই পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।

যশোরের বাজারে বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের বিদেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। দামের বড় পার্থ্যের কারণে বিদেশি ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও দেখা যাচ্ছে।

বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া ও নাভারণের বাজার হয়ে এসব মাছ যশোর বড় বাজারের বিভিন্ন আড়তে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, বিদেশি ইলিশের কারণে দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেরই দেখতে প্রায় একই হওয়ায় দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করে চেনা কঠিন।

বেনাপোলের স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, দেশি ইলিশ মনে করে মাছ কেনার পর খেয়ে স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য পেয়েছেন। তবে মাছের গায়ে উৎসের তথ্য স্পষ্ট না থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিষয়টি বোঝা কঠিন বলে জানান তিনি।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, ব্যবসায়ীরা আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করলে বিষয়টি মৎস্য আইনের আওতায় পড়ে না। তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, আমদানি করা ইলিশের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাজার পরিদর্শন ও প্রয়োজন হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।