শিশুদের কাছে জনপ্রিয় কাজী ফার্মসের মাফিন কেকের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) খাদ্য পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে কেকটিকে মানহীন ও খাবার অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ডিএসসিসির খাদ্য পরীক্ষাগারে বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের মোড়কজাত খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কাজী ফার্মসের মাফিন কেকের পরীক্ষার ফলাফলে অম্লতা ও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত প্রিজারভেটিভ না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনের ১৫ দিন পর পরীক্ষায় কেকটির অম্লতা পাওয়া যায় ৩ দশমিক ৩২, যেখানে নির্ধারিত মাত্রা এক হওয়ার কথা বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কেকটিতে যে প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের কথা, সেটিও পাওয়া যায়নি।
ডিএসসিসির খাদ্য পরীক্ষাগারের জনস্বাস্থ্য এনালিস্ট ইলিয়াছ জাহেদী বলেন, পণ্যটি মানহীন হিসেবে পাওয়া গেছে। এতে অম্লতা ও আর্দ্রতা বেড়েছে এবং নির্ধারিত প্রিজারভেটিভ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হওয়ার পর কাজী ফার্মসকে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, চার লাখ টাকা করে মোট আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পণ্য উৎপাদন বা বাজারজাত না করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বাজার থেকে মানহীন পণ্য তুলে নিয়ে নতুন পণ্য বিক্রির বিষয়ে আদালতে প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজী ফার্মস সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিষ্ঠান যত বড়ই হোক, মানহীন পণ্য বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানার ঘটনাকে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন তিনি।










