সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাঈদ এলাকায় পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং আশাব্যঞ্জক ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে। নতুন এই আবিষ্কার সৌদি আরবের খনিজ ও পারমাণবিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদ ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ খনিজ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান, ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম মজুত থাকার তথ্য রয়েছে।
এদিকে, নতুন আবিষ্কারের কয়েক মাস আগেই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন গতি আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর দুই দেশের খনিজ খাতেও সহযোগিতা বাড়ে। সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি প্রতিষ্ঠান মাআদেন এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে যৌথ অংশীদারত্বের চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় নির্মিতব্য একটি নতুন খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইতোমধ্যে আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চল শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন। ফলে দেশটির খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি আরবের এসব গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাব্য মোট মূল্য বর্তমানে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি।
নতুন এই আবিষ্কার সৌদি আরবের অর্থনীতিতে তেলনির্ভরতা কমিয়ে খনিজ, পারমাণবিক শক্তি ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।









