ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার এবার যেন অবসান হতে যাচ্ছে। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির বক্তব্যে জাতীয় দলে তার ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আবেগঘন বার্তায় জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হিসেবে দেখার পর থেকেই প্রশ্ন ছিল আবারও কি হলুদ-সবুজ জার্সিতে ফিরবেন ফুটবলের এই মহাতারকা?
সমর্থকদের একাংশের প্রত্যাশা ছিল, অন্তত আরেকবার ব্রাজিলের হয়ে মাঠে দেখা যেতে পারে নেইমারকে। এমনকি নেইমার সিনিয়রের কিছু মন্তব্য ঘিরেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার নিজেই এখন জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন না। ফলে তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার সুযোগও দেখছেন না ব্রাজিল কোচ।
নেইমারের বিকল্প খোঁজার বিষয়েও সরাসরি সতর্ক করেছেন আনচেলত্তি। তার মতে, নেইমারের সরাসরি কোনো বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ তিনি শুধু গোল করা বা আক্রমণভাগের একজন খেলোয়াড় ছিলেন না; তার সৃজনশীলতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করেছে।
তাই একজন ‘নতুন নেইমার’ খোঁজার পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়তে চান আনচেলত্তি। বিশেষ করে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবলারদের ওপর নজর রাখছেন তিনি।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের গুরুত্বও অস্বীকার করছেন না ব্রাজিল কোচ। তার মতে, ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও একজন ফুটবলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারেন। তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য তরুণ প্রতিভাদের ধীরে ধীরে জাতীয় দলের উপযোগী করে তোলাই এখন তার বড় লক্ষ্য।
নেইমার অধ্যায়ের পর তাই ব্রাজিলের সামনে নতুন বাস্তবতা। একজন তারকার ওপর নির্ভরতার বদলে একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে ঘিরে ২০৩০ বিশ্বকাপের দল গড়তে চান আনচেলত্তি। আর সেই পরিকল্পনায় নেইমারের প্রত্যাবর্তনের দরজা আপাতত বন্ধই মনে হচ্ছে।









