ফুটবল


বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের দাপট, চাপে থেকে গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ করল আর্জেন্টিনা


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের দাপট, চাপে থেকে গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ করল আর্জেন্টিনা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের প্রথমার্ধে মাঠজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ গঠন, লক্ষ্যে শট এবং পাসিং, প্রতিটি বিভাগেই এগিয়ে ছিল লা রোজা। গোলের দেখা না পেলেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করেন লামিন ইয়ামাল। বক্সে তার ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছে যায় দানি ওলমোর কাছে। ওলমো নিখুঁতভাবে বল ফেরত দিলে ইয়ামাল শট নেওয়ার সুযোগ পান। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় স্পেন।

 

শুরু থেকেই দুই দল পাল্টাপাল্টি আক্রমণের চেষ্টা করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতেই। এক পর্যায়ে মিকেল ওয়ারজাবাল চমৎকার এক ফ্লিকে পেদ্রো পোরোকে বল বাড়ালে ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। স্পেন ফাউলের দাবি জানালেও রেফারি স্লাভকো ভিনসিক খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

 

তবে স্পেনের আধিপত্যের মাঝেও সপ্তম মিনিটে আর্জেন্টিনা একটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। লিওনেল মেসি গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে দারুণ দক্ষতায় সেই সুযোগ নষ্ট করে দেন।

 

প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা বলের দখল রাখতে পারে মাত্র ৩২ শতাংশ। এ সময়ে দলের তিন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলিয়ে মাত্র ১৭ বার বলে স্পর্শ করতে সক্ষম হন। স্পেনের উচ্চ প্রেসিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি।

 

স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি পুরো প্রথমার্ধে ছিলেন দুর্দান্ত। মাঝমাঠ সামলানোর পাশাপাশি প্রয়োজনমতো তৃতীয় সেন্টার-ব্যাকের ভূমিকাও পালন করেন তিনি। বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ সৃষ্টি, সব ক্ষেত্রেই ছিল তার কার্যকর উপস্থিতি।

 

৩৯তম মিনিটে স্পেন আরেকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে। লাপোর্তে, রদ্রি ও আলেক্স বায়েনার চমৎকার পাস আদান-প্রদানের পর ফাবিয়ান রুইজ আলতো টোকায় বল বাড়িয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবালের দিকে। বক্সের প্রান্ত থেকে ওয়ারজাবালের শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

 

৪১তম মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। একই সময়ে স্পেনের মার্ক কুকুরেয়ার একটি প্রচেষ্টা ডান পাশের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়।

 

প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানেও স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য ফুটে ওঠে। বলের দখলে তারা ছিল ৬৫ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার দখল ছিল ৩৫ শতাংশ। স্পেন লক্ষ্যে দুটি শট রাখতে সক্ষম হয়। পাসিংয়েও ছিল বড় ব্যবধান। স্পেনের ৩১৩টি সফল পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা সম্পন্ন করতে পেরেছে ১৫৫টি পাস।

 

গোলের দেখা না মিললেও প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল এবং ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

 
 
 

সম্পর্কিত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ফাইনালস্পেনআর্জেন্টিনা

জনপ্রিয়


ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে স্পেনের দুই ফুটবলারের ওপর কেন চড়াও হলেন পারেদেস?

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর মাঠেই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারদেস। ম্যাচ শেষে স্পেনের দুই ফুটবলার এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেরান তোরেসের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়

স্পেনের আধিপত্যের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারল না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোজা।

মার্টিনেজের রেকর্ড ১০ সেভ, এনজোর লাল কার্ড, অতিরিক্ত সময়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে একাই যেন আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে রেকর্ড ১০টি সেভ করেন তিনি। তবে ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় শিরোপা নির্ধারণ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আট দল, গোল না হজম করেই অনন্য নজির স্পেনের

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই নিশ্চিত করেছে আটটি দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, বেলজিয়াম এবং স্পেন শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই আট দলের মধ্যে একমাত্র স্পেনই এখন পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম করেনি। দুর্দান্ত রক্ষণভাগের নৈপুণ্যে তারা গড়েছে অনন্য এক রেকর্ড।