মামলাটিতে ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে।

এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৭ আগস্ট মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের খালাস চেয়েছেন।

আন্দোলন দমনে হামলার অভিযোগ

citytouch 728-X-90

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সহায়ক বাহিনী হিসেবে সরাসরি হামলায় অংশ নেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অঙ্গহানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচার

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো আসামি পলাতক বা অনুপস্থিত থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে তার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাত আসামির অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার এগিয়ে নেওয়া হয়।

গত ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর গত ৪ আগস্ট মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিপক্ষও তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ১৭ আগস্ট রায় অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপের সমাপ্তি ঘটবে।