মানিকগঞ্জের সিংগাইরের আলোচিত স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মামলার অপর একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।

citytouch 728-X-90

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশালের বিমানবন্দর উপজেলার সারসী গ্রামের মো. সাগর মুন্সি। তাদের মধ্যে সাগর মুন্সি বর্তমানে পলাতক।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

করোনা মহামারির সময় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক কিনে দেন। সোহান ওই হ্যালোবাইক চালিয়ে ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করে পরিবারের আয়ে সহায়তা করতেন।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকালে হ্যালোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে সন্ধ্যায় খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়েছিল।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।