বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যও পড়েছে বড় ধরনের ঝুঁকিতে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে খরচ এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ কুটুবা এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গ্যাসভিত্তিক ‘ভোলা-১’ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২২৫ মেগাওয়াট। একই এলাকায় নূসতান নামে আরও একটি ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে।

এ ছাড়া খেয়াঘাট এলাকায় একটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। শুরুতে ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি পরে ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে সেটিও বন্ধ। ভোলা সদরের পুরোনো ৮ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও ২০২০ সালে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

citytouch 728-X-90

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ভোলায় উৎপাদিত ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। পরে জাতীয় গ্রিড থেকেই ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে জেলায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা উৎপাদিত বিদ্যুতের সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন না।

ভোলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের আওতায় রয়েছেন ৫ লাখের বেশি গ্রাহক। এর মধ্যে শুধু পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকই প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার। জেলার মোট বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুম ও সময়ভেদে প্রায় ৯২ থেকে ১২০ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিনই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ইলিশা এলাকার বরফকলের সত্ত্বাধিকারী মোর্শেদ আলম বলেন, “ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য জেলা চলে। অথচ ভোলায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের বরফকলের ব্যবসা এখন বন্ধ হওয়ার পথে।”

লালমোহনের ব্যবসায়ী রিজভী সাকিল বলেন, “লোডশেডিং এখন প্রতিদিনের নিয়ম হয়ে গেছে। আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বিদ্যুৎনির্ভর। কিন্তু যে হারে লোডশেডিং হচ্ছে, তাতে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বর্তমানে দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, ভোলার গ্যাস ও অন্যান্য নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তার একটি যৌক্তিক অংশ সরাসরি জেলাবাসীর চাহিদা পূরণে বরাদ্দ করা উচিত। তাদের মতে, নিজ জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও যদি ভোলাবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে থাকতে হয়, তাহলে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা জরুরি।