উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কিংবা কৌশলগত জোটের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি আত্মনির্ভর হতে হবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে।
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন আল-আনসারি। তার মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপত্তার জন্য কেবল এর ওপর নির্ভরশীল থাকা সম্ভব নয়।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতারের এই বক্তব্য সামনে এলো। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পারছে, নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি এমন বার্তাই দিয়েছেন আল-আনসারি।
কাতারের এ অবস্থানের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনারও মিল রয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
আল-আনসারি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠন সহজ হবে না, তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভবিষ্যতের জন্য পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জরুরি। নিষেধাজ্ঞার বদলে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা উচিত বলেও মত দেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও মন্তব্য করেন কাতারি মুখপাত্র। বিকল্প জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের গুরুত্ব কমবে না বলে তিনি মনে করেন।
ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেই কাতারের এই অবস্থান উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।









