অর্থনৈতিক চাপ, বিদেশি ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায় এবং রাজস্ব আদায়ে ধীরগতির মধ্যেই বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে এগোচ্ছে সরকার। তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি একনেক সভায় অনুমোদিত ৬৭ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ৪৭ শতাংশই ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার মেট্রোরেল সম্প্রসারণের একাধিক উদ্যোগ। এমআরটি-৫ নর্থ ও এমআরটি-১ প্রকল্পে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে, যার বড় অংশ বিদেশি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ঋণের সুদের হারও কিছু ক্ষেত্রে ৩ শতাংশের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এমআরটি-৫ সাউথ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রায় ৬৭ শতাংশ অর্থ কোরিয়া থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একদিকে নতুন অবকাঠামো তৈরি হলেও অন্যদিকে ভবিষ্যতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে শুধু এর সম্ভাব্য সুবিধা নয়, ঋণ পরিশোধের সময়সূচি, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এবং প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই যদি ঋণ পরিশোধের চাপ শুরু হয়, তাহলে সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের আরও আশঙ্কা, সব বড় প্রকল্প সমানভাবে অর্থনৈতিক সুফল দেবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই কস্ট-বেনিফিট বিশ্লেষণ, প্রকল্পের বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের কাঠামো আরও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে সরকার প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। এর পর নতুন সরকারের দায়িত্বের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আরও ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশি ঋণ পরিশোধের দায় তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোতে বড় প্রকল্পের প্রয়োজন থাকলেও প্রশ্ন উঠছে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন কতটা টেকসই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা কতটা বাড়াবে? উন্নয়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফলের বদলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।










