মতামত


বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনার মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া, চলমান হামলায় শত শত শিশুসহ বেসামরিক নিহত


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার

বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনার মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া, চলমান হামলায় শত শত শিশুসহ বেসামরিক নিহত

একদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রস্তুতি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে । ছবি: সংগৃহীত


একদিকে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব। অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে থামছে না প্রাণহানি। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি থাকবে এই মহারণের দিকে। কিন্তু একই সময়ে ইরান, গাজা ও লেবাননে চলমান সামরিক সংঘাতে প্রতিদিনই বাড়ছে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। শিশুদের প্রাণহানিসহ মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার খবর আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও আঞ্চলিক সূত্রে।

 

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। গাজায় খাদ্য, চিকিৎসাসেবা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একই সময়ে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান, গাজা ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলায় শত শত শিশুসহ বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আবাসিক ভবন, সড়ক, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও চিকিৎসা অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন চললেও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্রীড়া উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্য নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

 

এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। গত মাসেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছিলেন, এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফাইনাল উপভোগের পর যৌথভাবে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন।

 

তবে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন বালোগান। যদিও সেই ম্যাচে পরাজিত হয় যুক্তরাষ্ট্র।

 

ট্রাম্প, স্পেনের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার উপস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ ফাইনালকে 'লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট' ঘোষণা করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, স্নাইপার টিম, বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্বকাপের আলো আর যুদ্ধের অন্ধকারের এই বৈপরীত্যই এবার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। একদিকে স্টেডিয়ামে লাখো দর্শকের উল্লাস, রঙিন আলোকসজ্জা, ট্রফি উৎসব এবং বিশ্বসেরাদের লড়াই। অন্যদিকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে গাজা, লেবানন ও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনের খোঁজ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহতদের দীর্ঘ সারি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলা অসংখ্য মানুষ।

 

এই বৈপরীত্যের মধ্যেই বিশ্বকাপ ফাইনালের একই গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। রাজনীতিতে বিপরীত অবস্থানে থাকা এই দুই নেতার মধ্যে আলাদা কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মেয়রের মুখপাত্র।

 

এর আগে গত মাসে এনবিএ ফাইনালেও একই ভেন্যুতে দেখা গিয়েছিল ট্রাম্প ও মামদানিকে। সে সময় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের একটি বুলেটপ্রুফ লাক্সারি বক্সে বসে খেলা উপভোগ করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে মামদানি সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে গ্যালারির ওপরের সারিতে বসে ম্যাচ দেখেন। এক মাসের ব্যবধানে আবারও একই ভেন্যুতে উপস্থিত থাকছেন তারা, তবে এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ফাইনালে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে এই উপস্থিতিও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।


সম্পর্কিত

মতামতবিশ্বকাপমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ

জনপ্রিয়


মতামত থেকে আরও পড়ুন

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে

তারেক রহমানের সরকারকে ক্ষমতায় আনা যে বিপ্লব, তা কোনোভাবেই একটি স্বৈরাচারের পরিবর্তে আরেকটি করপোরেট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছিল না যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়াশিংটনে।

রিয়েল এস্টেট সেক্টরে প্রয়োজন পর্যাপ্ত আধুনিকায়ন

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসনের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এই খাত প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন হয়েছিল?

মাত্র দেড় বছর আগে সংঘটিত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন- যাকে অনেকেই ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দেন তা ঘিরে জনমনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও এর পেছনের কারণগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

নৈতিকতার অবক্ষয় না কি সময়ের পরিবর্তন

সমাজ কখনোই স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্যবোধ, চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে যে পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে, সেগুলো অনেকের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, ভোগবাদী সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতার বিস্তারের কারণে মানুষের সম্পর্ক, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে।