মতামত


রিয়েল এস্টেট সেক্টরে প্রয়োজন পর্যাপ্ত আধুনিকায়ন


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার

রিয়েল এস্টেট সেক্টরে প্রয়োজন পর্যাপ্ত আধুনিকায়ন

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসনের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এই খাত প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো- এই খাত এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত বা এনালগ পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল, তাই ২০২৬-এ এসেও আমরা দেখতে পাই পর্যাপ্ত আধুনিকায়নের অভাবে কিছু কিছু পদ্ধতি ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। তাই রিয়েল এস্টেট সেক্টরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

 

ডিজিটালাইজেশন বলতে শুধু অনলাইনে বিজ্ঞাপন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়াকে বোঝায় না। বরং এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে একটি রিয়েল এস্টেট প্রজেক্টের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা, ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো ডিজিটাল মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ক্রেতারা সহজে প্রকল্প সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ডিজিটালাইজেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভিজ্যুয়ালাইজেশন। অনেক সময় একজন ক্রেতার পক্ষে একটি জমি বা ভবনের পরিকল্পনা কেবল নকশা দেখে কল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ডিজিটাল থ্রিডি ভিউ, এরিয়াল ভিউ, ভবনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নকশা, আশপাশের রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি প্রকল্পকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব। এতে সম্ভাব্য ক্রেতারা প্রকল্প সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পান এবং তাদের আগ্রহও বাড়ে। এছাড়া ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সময়ে একজন ক্রেতা কোনো প্রজেক্ট সম্পর্কে জানার আগে অনলাইনে তথ্য খোঁজেন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং আপডেট থাকে, তাহলে ক্রেতার মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয়। অনলাইন মিটিং, ভিডিও কল বা ভার্চুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসী ক্রেতাদের সাথেও সহজে যোগাযোগ করা যায়, যা ব্যবসার পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে।

 

রিয়েল এস্টেট খাতে কার্যকর কমিউনিকেশন সিস্টেম গড়ে তোলাও ডিজিটালাইজেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক সময় দেখা যায়, প্রজেক্টের অগ্রগতি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্লায়েন্টদের কাছে সময়মতো পৌঁছায় না। কিন্তু ডিজিটাল কমিউনিকেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইমেইল, মেসেজ, অনলাইন আপডেট বা প্রজেক্ট প্রগ্রেস ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ক্লায়েন্টদের তথ্য জানানো সম্ভব। এতে ক্লায়েন্টের সাথে দীর্ঘমেয়াদি একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি হয়। এছাড়াও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও এখন ডিজিটাল মাধ্যমে সহজভাবে তুলে ধরা সম্ভব। একজন সচেতন ক্রেতা ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, ফাউন্ডেশন সিস্টেম, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, আলো-বাতাসের প্রবাহ এবং ডিজাইনের মান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী থাকেন। এই বিষয়গুলো যদি গ্রাফিক্স, ডায়াগ্রাম বা ব্যাখ্যামূলক ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে ক্রেতারা প্রকল্প সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন। একটি রিয়েল এস্টেট প্রজেক্টের ক্ষেত্রে শুধু লোকেশন বা দাম নয়, বরং প্রকল্পের সামগ্রিক পরিকল্পনা, ভবনের গঠন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব বিষয় তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করা গেলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং ক্রেতাদের আস্থাও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রিয়েল এস্টেট খাত আরও সংগঠিত, পেশাদার এবং আধুনিক হয়ে উঠতে পারে।

 

পরিশেষে এটুকুই বলতে চাই, রিয়েল এস্টেট সেক্টরের টেকসই উন্নয়নের জন্য ডিজিটালাইজেশন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এই খাতকে আরও স্বচ্ছ, তথ্যসমৃদ্ধ এবং ক্রেতাবান্ধব করে তুলতে পারে। একই সাথে এটি দেশের রিয়েল এস্টেট শিল্পকে একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

  • লেখকঃ ইঞ্জিনিয়ার আকাশ চন্দ্র দাস. প্রতিষ্ঠাতা, নেক্সফেয়ার

সম্পর্কিত

মতামতরিয়েল এস্টেট

জনপ্রিয়


মতামত থেকে আরও পড়ুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন হয়েছিল?

মাত্র দেড় বছর আগে সংঘটিত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন- যাকে অনেকেই ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দেন তা ঘিরে জনমনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও এর পেছনের কারণগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

নৈতিকতার অবক্ষয় না কি সময়ের পরিবর্তন

সমাজ কখনোই স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্যবোধ, চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে যে পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে, সেগুলো অনেকের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, ভোগবাদী সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতার বিস্তারের কারণে মানুষের সম্পর্ক, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

রক্তে ভেজা উদীচী, তবু থামেনি প্রতিবাদের সুর

মৌলবাদী শক্তি বরাবরই সংস্কৃতি চর্চাকে তাদের মতাদর্শের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কারণ, সংস্কৃতি মানুষের চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করে, প্রশ্ন করার সাহস দেয় এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে তোলে। এ কারণেই ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকার খাবার পানির ভবিষ্যৎ কী?

ঢাকা আজ শুধু যানজট, বায়ুদূষণ বা আবাসন–সংকটের শহর নয়, এটি দ্রুত একটি পানিসংকটের শহরে পরিণত হচ্ছে। রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গত দুই দশকে উদ্বেগজনক হারে নিচে নেমেছে। একই সময়ে আশপাশের নদীগুলো, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, দূষণে বিপর্যস্ত। জনসংখ্যা বেড়েছে, ঘনত্ব বেড়েছে, আবাসন উল্লম্ব হয়েছে, শিল্পায়ন প্রসারিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এ শহরের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে?