মতামত


জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন হয়েছিল?


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:২৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন হয়েছিল?

জুলাই অভ্যুত্থান । ফাইল ছবি


মাত্র দেড় বছর আগে সংঘটিত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন- যাকে অনেকেই ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দেন তা ঘিরে জনমনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও এর পেছনের কারণগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক বৈষম্যই এই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বহু শিক্ষার্থী আহত, গ্রেপ্তার কিংবা আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০০৯ সালের পর থেকে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। তরুণ প্রজন্ম এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বড় হয়েছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল।

 

অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য নিয়েও অসন্তোষ ছিল। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছিল।

 

অর্থনৈতিক দিক থেকেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জনঅসন্তোষকে আরও উসকে দেয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। তবে এই আন্দোলনের মূল্যায়ন নিয়ে সমাজে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

 

জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও তরুণ সমাজের সম্পর্ককে নতুনভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।


সম্পর্কিত

মতামতজুলাই গণ–অভ্যুত্থানজুলাই বিপ্লবজুলাই গণঅভ্যুত্থান

জনপ্রিয়


মতামত থেকে আরও পড়ুন

নৈতিকতার অবক্ষয় না কি সময়ের পরিবর্তন

সমাজ কখনোই স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্যবোধ, চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে যে পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে, সেগুলো অনেকের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, ভোগবাদী সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতার বিস্তারের কারণে মানুষের সম্পর্ক, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

রক্তে ভেজা উদীচী, তবু থামেনি প্রতিবাদের সুর

মৌলবাদী শক্তি বরাবরই সংস্কৃতি চর্চাকে তাদের মতাদর্শের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কারণ, সংস্কৃতি মানুষের চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করে, প্রশ্ন করার সাহস দেয় এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে তোলে। এ কারণেই ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকার খাবার পানির ভবিষ্যৎ কী?

ঢাকা আজ শুধু যানজট, বায়ুদূষণ বা আবাসন–সংকটের শহর নয়, এটি দ্রুত একটি পানিসংকটের শহরে পরিণত হচ্ছে। রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গত দুই দশকে উদ্বেগজনক হারে নিচে নেমেছে। একই সময়ে আশপাশের নদীগুলো, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, দূষণে বিপর্যস্ত। জনসংখ্যা বেড়েছে, ঘনত্ব বেড়েছে, আবাসন উল্লম্ব হয়েছে, শিল্পায়ন প্রসারিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এ শহরের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে?

‘ইনকিলাব’ নিয়ে বিতর্ক: কলম-ওকিল-ইশারাও কি তবে বাংলা নয়?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ইনকিলাব’ শব্দ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বাংলা ভাষাকে মায়ের ভাষা হিসেবে সম্মান করতে হলে এ ধরনের স্লোগান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”