

তারেক রহমানের সরকারকে ক্ষমতায় আনা যে বিপ্লব, তা কোনোভাবেই একটি স্বৈরাচারের পরিবর্তে আরেকটি করপোরেট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছিল না যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়াশিংটনে। ইতিহাসে এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের অধীনস্থতার অংশীদার হয়ে যায়।
বাংলাদেশ, যা এখনো একটি ক্ষয়িষ্ণু শাসনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে, তাড়াহুড়ো করে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আরেকটি শক্তির প্রভাবের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচিত নন এমন এক তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যিনি এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেননি দেশকে এমন এক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছেন, যা জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করতে পারে।
২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত Agreement on Reciprocal Trade (ART) এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ। প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে সরকার “সমঝোতা” হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে এটি এক ধরনের আনুগত্যের প্রকাশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক প্রশ্ন
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫এ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না, বিশেষ করে যেগুলো দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে ১৫ বছরের জ্বালানি নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের আমদানি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে “ডকট্রিন অব নেসেসিটি” বা ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে- যার মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি দেওয়া হয়। তবে ইতিহাস বলছে, এই তত্ত্ব প্রায়ই সাময়িক ব্যবস্থাকে স্থায়ী করে তোলে।
এই চুক্তির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক চাপ। বাংলাদেশকে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে সেই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কিন্তু চুক্তির মাত্র ১১ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক আরোপকে আইনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্থাৎ, যে কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে, সেই কারণই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
ফলে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এমন এক সমস্যার সমাধানে বড় মূল্য দিয়েছে, যা হয়তো আইনগতভাবে টেকসইই ছিল না।
গোপন শর্ত
চুক্তির গোপন বা সূক্ষ্ম শর্তগুলো আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে “নন-মার্কেট ইকোনমি” দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার ধারা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পণ্য যেমন LNG, সয়াবিন ও বিমান ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের চুক্তি আধুনিক বিশ্বে সরাসরি দখলদারিত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক ও নীতিগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি।
সংসদের ভূমিকা
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আগামী সংসদ এই চুক্তি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।
বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, তা কোনোভাবেই আরেক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নির্ভরতার জন্য ছিল না। যদি এখনই সচেতন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশকে এমন এক অবস্থায় পড়তে হতে পারে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু স্বাধীনতা থাকবে না।
[email protected]। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব।
‘সহজ কিস্তি’, ‘০% সুদ’ গ্রাহক আকৃষ্ট করতে এমন প্রচারণার আড়ালে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কেন? চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো বাংলাদেশের কিস্তি বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে এমন প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ৯ মাসের কিস্তিতে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে নগদ মূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। অথচ প্রচারণায় বলা হচ্ছে ‘০% সুদ’।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’, যার আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউসেপ বাংলাদেশ। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রজেক্ট (ALP) এবং জিআইজেড-এর Advantage প্রজেক্ট-এর আওতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন তরুণদের জন্য নতুন কর্মজীবনের সুযোগ উন্মোচনের পাশাপাশি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে।
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।