বলিউডের বিখ্যাত নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ নির্মিত চলচ্চিত্র 'খুফিয়া'-তে অভিনয় করছেন আজমেরী হক বাঁধন- মিডিয়াপাড়ায় এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো অনেকদিন ধরেই।
অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে সে গুঞ্জনকে সত্যি করে সম্প্রতি সামনে এলো 'খুফিয়া'-র টিজার।
একের পর এক সিনেমা ও সিরিজে অনবদ্য অভিনয়ের পর এবার নেটফ্লিক্সে নিজের অভিষেক ঘটাতে চলেছেন 'রেহানা মারিয়াম নূর'- খ্যাত এই অভিনেত্রী।
বাঁধন ছাড়াও ‘খুফিয়া’তে আরও অভিনয় করছেন বলিউডের টাবু, আলি ফজল ও আশীষ বিদ্যার্থীর মতো শিল্পীগণ।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা অমর ভূষণের জনপ্রিয় ডিটেকটিভ উপন্যাস ‘এসকেপ টু নোহোয়ার’- কে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি।
গত ১১ই অক্টোবর থেকে ছবিটির শ্যুটিং শুরু হয়। আর গত ২৯শে অগাস্ট ৪৭ সেকেন্ডের একটি টিজার প্রকাশ করে নেটফ্লিক্স।
তবে এখনো শেষ হয়নি সম্পূর্ণ শ্যুটিংয়ের কাজ। অবশিষ্ট অংশের শ্যুটিং শেষ করতে এরই মধ্যে ঢাকা থেকে মুম্বাইয়ে উড়াল দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।
ব্যাপক আলোচিত এই চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে গত বছরের আগস্ট - সেপ্টেম্বরের দিকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো বাংলাদেশে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ 'খুফিয়া'-তে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রথমে এসেছিলেন বিদ্যা সিনহা মীম, মেহজাবীন চৌধুরী ও রাফিয়াথ রশীদ মিথিলার কাছে।
তবে এতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, একজন বাংলাদেশির জন্য, দেশপ্রেমের প্রেক্ষাপটে এ চরিত্রটি অনেক স্পর্শকাতর।
তাই লোভনীয় হলেও এক রকম বাধ্য হয়েই মকবুল, ইশকিয়া, কামিনে, হায়দার, ওমকারা-খ্যাত এ পরিচালকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা।
কিন্তু এই চরিত্র নিয়েই আজমেরী হকের মন্তব্য ছিল , 'চরিত্রটি বড্ড চ্যালেঞ্জিং। আর তাই এটি আমার নজর কেড়েছে।'
বিশাল ভরদ্বাজ ও টাবুর সঙ্গে একই শ্যুটিং ফ্লোরে কাজ করাটাও বাঁধনের কাছে দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অস্বীকার করবার উপায় নেই, বিশালের মতো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করার জন্য বলিউডের বড় বড় তারকারাও মুখিয়ে থাকেন।
বাঁধন আরও জানান তাঁর এই ছবিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে আরেকটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন অভিনেত্রী টাবু।
টাবু কখনোই স্রোতে গা ভাসানো মানুষ নন। তার সঙ্গে যখন স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ হয়েছে সে সুযোগটি কোনোভাবেই হারাতে চাননি বাঁধন।
ছবিটিতে বাঁধনের চরিত্রটি আসলে কতটা নেতিবাচক কিংবা বাংলাদেশের বিপক্ষে তা কতটুকু যাবে; সে বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি নন অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্রটি আগে মুক্তি পাক। মানুষ তা দেখুক। এরপর আসবে মূল্যায়নের প্রসঙ্গ। সিনেমার একটি চরিত্রে অভিনয় করার মানে তো অপরাধ কিছু নয়।
অভিনয় তো অভিনয়ই। সেই চরিত্রটি আমি কতটা প্রপারলি পোট্রে করতে পেরেছি, সেটাই হোক সমালোচনার বিষয়।
‘খুফিয়া’কে বাঁধন দেখছেন তার অভিনয় জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভ্রমণ হিসেবে। তিনি বলেন, কাজটি করার জন্য তাঁকে একটি মানসিক শক্তির পরিচয় দিতে হয়েছে; যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ বিরতির পর 'রেহানা মরিয়ম নূর'- চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মিডিয়াজগতে আবারও পথচলা শুরু করেছিলেন বাঁধন। এরপর থেকেই তার ক্যারিয়ার গ্রাফে কেবলই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্যণীয়।
সৃজিত মুখার্জী পরিচালিত ওয়েব সিরিজ 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি'- তে অভিনয় করে ফের আলোচনায় আসেন বাঁধন।
বলিউডের 'খুফিয়া'-তে তাঁর উপস্থিতি এবারে কতটা সন্তুষ্ট করতে পারে দর্শককে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।