দেশের বিনোদনপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন ঢাকাই সিনেমার নায়ক জায়েদ খান। কারনে- অকারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত চর্চায় থাকেন এ নায়ক।
বলিউড ভাইজান সালমান খানের ভক্ত তিনি। নিজেকে বলিউডের এই সুপারস্টারের চেয়ে কোনো অংশে কম মনে করেন না।
ফ্যাশন, স্টাইলের দিক থেকেও নিজের পছন্দের নায়ককে অনুসরণ করেন জায়েদ। তার মতই হাতে পড়েন নীল পাথরের ব্রেসলেট এবং কানে ছোট দুল। সালমানের ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'বিং হিউম্যানে'র পোশাকের প্রতিও বিশেষ দূর্বলতা রয়েছে তার।
যদিও সালমানকে অনুকরণের কথা সরাসরি স্বীকার করতে নারাজ এ অভিনেতা। তবে তার ফ্যাশন প্রীতি দেখলে, দর্শকদের বুঝতে ভুল হয়না।
দীর্ঘদিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এ নায়ক। মত দিয়েছেন নানা ঘটনা নিয়ে। আর বিভিন্ন মন্তব্যের জের ধরে, তাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রোল করেন নেটিজেনরা।
তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় একাধিক তারকার সাথে তার মনোমালিন্যের খবর প্রকাশ্যে আসে। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে।
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে একাধিক নায়িকার সাথেও তার ঝুট ঝামেলার কথা প্রকাশ্যে আসে। ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিr জনপ্রিয় নায়িকা পপি তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এ নায়িকা হঠাৎ করেই একটি ভিডিও বার্তায় জানালেন, জায়েদ খান তার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর পর তাকে নানা ভাবে হেনস্থা করতেন। এসময় তিনি জায়েদের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ সবার সামনে তুলে ধরেন।
এছাড়া, ঢালিউডের আরেক জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমীর সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করাr জন্যেও তাকে দায়ী করা হয়। কিছু দিন আগেই অল্পের জন্য ভাঙতে ভাঙতে বেঁচে যায় মৌসুমী এবং ওমরসানী দম্পতির দীর্ঘদিনের সংসার। সেসময় চিত্রনায়ক ওমরসানি তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য জায়েদ খানকে দায়ী করেন। এমনকি ডিপজলের মেয়ের বিয়েতে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডায় জড়ানোর খবরও শোনা যায়।
যদিও এসবকিছু আবার মৌসুমী অস্বীকার করেছিলেন। জায়েদ খানও মৌসুমীকে বড় বোনের মত দেখার কথা জানান। তবে কি নিয়ে তাদের মাঝে মনোমালিন্যের সূত্রপাত হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সম্প্রতি বিভিন্ন নারী কেলেংকারীর কথা উড়িয়ে দিয়ে, তিনি ঘটা করে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এত কিছুর ভীড়েও সাধারণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় নায়ক জায়েদ খান। তার ভক্ত অনুরাগীর সংখ্যা নেহাতই কম নয়।
২০০৮ সালে ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় প্রথম অভিষেক হয় জায়েদ খানের। এর পর থেকে প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পর্দায় অভিষেকের পরপরই 'কাজের মানুষ', ‘মন ছুঁয়েছে মন', ‘দাবাং’, ‘মায়ের চোখ ও ‘রিকশাওয়ালার ছেলে’র মত বেশ কিছু বানিজ্যিক ধারার সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি।
২০১২ সালে শাবনূরের মত লিডিং অভিনেত্রীর বিপরীতে, ‘আত্মগোপন’ সিনেমায় অভিনয় করেন জায়েদ খান। এছাড়া 'নগর মাস্তান’ এনং ‘অন্তর জ্বালা’ সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন নায়িকা পরীমনি।
সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইয়ের সময় থেকে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়েন নায়িকা নিপুনের সাথে। কিন্তু ‘লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন’ নামের একটি টেলিফিল্মে চিত্রনায়িকা নিপুণের সাথেই জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন জায়েদ খান।
তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সমালোচনা করা হলেও, ব্যক্তি জায়েদ খান অত্যন্ত উদার মনের মানুষ। সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন কাজ করেছেন অসহায় ও দুস্ত শিল্পীদের জন্য।
দেশে ভারতীয় সিনেমা মুক্তির বিরুদ্ধেও সোচ্চার তিনি। তার মতে, বিদেশি সিনেমা মুক্তি পাওয়া শুরু করলে, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে সবসময় কাজ করে যেতে চান এ অভিনেতা।