ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সদা চুপচাপ কেনো মোস্তফা সরয়ার ফারুকী? মিডিয়ার কাছে কী আড়াল করতে চান এই নির্মাতা?
বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের সিনেমা মানেই মোস্তফা সরয়ার ফারুকি! সত্যিকার অর্থেই যদি কেউ বাংলাদেশকে শিল্প দিয়ে Represent করেন, সেই ব্যক্তিটা নিঃসন্দেহেই ফারুকি!
সস্তা জনপ্রিয়তা আর বস্তা পচা কন্টেন্ট কোনোদিন এই লোকটিকে এতোটুকু আকৃষ্ট করতে পারেনি। যখন নাটকে নোংরামি ঢুকে পড়লো তার আগ মুহূর্তেই নাটককে বিদায় জানিয়ে সিনেমায় চলে গেলেন ফারুকি! এতো বড় রিস্ক কেবল জাত নির্মাতারাই নিতে পারেন!
এখনো যদি মোস্তফা সরয়ার ফারুকির বানানো নাটকগুলো ইউটিউবে ঘুরে দেখে আসেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কী বানিয়েছিলেন এই ব্যক্তি!
মূলত টিভি নাটক পরিচালনার মাধ্যমে নির্মান কাজ শুরু করেন ফারুকী। তার পরিচালিত প্রথম নাটক ছিল ‘ওয়েটিং রুম’।
যদিও একুশে টিভিতে নাটকটি জমা দেবার পর তারা শুরুতেই রিজেক্ট করে দিয়েছিলেন, আর ফারুকী ভেবেছিলেন পরিচালক হিসেবে সেখানেই তার ইতি,
কিন্তু E TV কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আবার নাটকটি দেখে এবং প্রচারের উদ্যোগ নেয়। আর সেখান থেকেই যাত্রা শুরু ফারুকি নামক অধ্যায়ের!
সাহিত্যিক আনিসুল হকের সাথে জুটি বেঁধে তিনি বেশ কিছু নাটক নির্মান করেন। তার নির্মিত বেশিরভাগ নাটকই যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।
খন্ড নাটকের পাশাপাশি ধারাবাহিক এবং মেগাধারাবাহিক নাটক নির্মান করেও তিনি সফলতা অর্জন করেন।
প্রতিটি চিত্র পরিচালকের মতো ফারুকীরও আছে নিজস্ব গল্প বলার ভঙ্গিমা। তার পরিচালনায় '৪২০', '৫১বর্তী' প্রমুখ ধারাবাহিক নাটক বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো ব্যাচেলর, যা ২০০৪ সালে মুক্তি পায়। নানা কারণে ছবিটি বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হয়।
বিশেষ করে, তার এ চলচ্চিত্রটি নাটক না চলচ্চিত্র – এ বিষয় নিয়ে সে সময় চলেছিল নানান বিতর্ক। একই ধারাবাহিকতায় তার দ্বিতীয় ছবি made in bangladesh আলোচিত-সমালোচিত হয়।
অবশ্য তৃতীয় ছবি third person singular number থেকে শুরু করে পরের সব ছবিই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসা অর্জন করে এবং বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়।
তবে শুধু ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ বা ‘টেলিভিশন’ কিংবা 'ব্যাচেলর'ই নয়, ফারুকীর প্রতিটি ছবিই অসংখ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি বাহবাও কুড়িয়েছে প্রচুর।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার নিজস্ব ঢঙে নাটক, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য "ছবিয়াল" নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন।
সবশেষ আলোচনায় এলেন হলি আর্টিজানে ঘটা সন্ত্রাসী হামলার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার সেন্সর জটিলতা নিয়ে।
ফারুকীর অন্যান্য চলচ্চিত্রের মতো এটিও রয়েছে আলোচনা- সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।দেশের ভাবমূর্তির জন্য এই ছবিটি ক্ষতিকর জানিয়ে সেন্সর বোর্ড এই চলচ্চিত্রটির ছাড়পত্র স্থগিত করে রেখেছিল দীর্ঘদিন।
সম্প্রতি কোনো দৃশ্যের সংযোজন বা পরিমার্জন ছাড়াই, আপিল বোর্ডের শর্ত সাপেক্ষে সিনেমাটি মুক্তির কথা শোনা গিয়েছিল।
কিন্তু এখনো সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র হাতে না পাওয়ায় এ ছবির ভবিষ্যৎ এখনো অজানা। এদিকে একই কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত বলিউডের ‘ফারাজ’ সিনেমা মুক্তি পেয়ে গেলেও এখনো ঝুলে আছে ফারুকির ‘শনিবার বিকেল’!
২০১৮ সালে নির্মিত এই সিনেমা আর কতকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকবে সেকথা ফারুকি কিংবা তার ভক্তকূলের কেউই জানেন না!
উল্লেখ্য ২০১০ সালের ১৬ জুলাই অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
এরপর ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি তাদের ১১ বছরের সংসার জীবনে ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে আসে প্রথম সন্তান ইলহাম।
কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই মুখ খোলেন তিনি। তবে নানান সাক্ষাৎকারে চলে আসে তাঁর পছন্দ-অপছন্দের কথা।
জানা যায়, চলচ্চিত্র নির্মাণ ছাড়াও নানান কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত আছেন ফারুকী। বিশেষ করে লেখালেখি করতে ভীষণ পছন্দ করেন তিনি।