দাদু, সুগার ড্যাডি, নানা! যে নামেই ট্রোল করুন না কেনো সুখী দম্পতি টম-বৃষ্টি! বয়সের ফারাক ৩০ বছর হলেও সুখেই সংসার করছেন টম ও মিষ্টি ইমাম।
২০ বছরের তরুণী মিষ্টি ভালোবেসেই বিয়ে করেছেন ৫০ বছরের টিমকে। বয়সের পার্থক্যের কারণে এই জুটিকে কেউ বলে বাবা মেয়ে, আবার কেউ বলে নানা নাতনি।
আলোচনা এখানেই থেমে নেই, টাকার লোভে এবং আমেরিকার বাসিন্দা হতেই নাকি মিষ্টি বিয়ে করেছেন পঞ্চাশোর্ধ টম ইমামকে!
তিন বছর সংসার অতিবাহিত করা টম বলেন, "কোটি কোটি টাকা ছিল, কিন্তু শান্তি ছিল না। এখন বউ পাশে আছে শান্তি আছে।" দুই বছর পর সন্তান নিবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
মাঝে মধ্যেই এই জুটি দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজ, রান্নার ভিডিও পোস্ট করেন তাদের ফেইসবুক পেইজে। মিষ্টি শর্ট প্যান্ট পরে টমের সাথে ঘুরে বেড়ান আমেরিকার বিভিন্ন স্পটে।
তাদের তৈরি করা ব্লগে ফুটে ওঠে দেশটির বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন ভিউ। পাশাপাশি শেয়ার করে তাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, টক - ঝাল - মিষ্টি কথোপকথন।
তাদের নানান খুনসুটি দেখে মুগ্ধ হন অনেকে। মূলত তাদের ভিডিও গুলোতে ফুটে ওঠে স্বামী এবং স্ত্রীর কেয়ারিং। একে অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ।
তাছাড়া মিষ্টির বাংলা গানের তালে নাচ, বাঙালি শাড়ি, গরুর মাংস রান্না, শুটকি ভর্তার রেসিপির ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়।
মূহুর্তেই পড়ে যায় হাজার হাজার রিয়েক্ট। ফ্যান ফলোয়াররা কমেন্ট বক্সে শেয়ার করেন মতামত।
আলোচিত এই জুটির প্রেম পর্বের শুরুটাও ছিল বেশ নাটকীয়। বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে এক হয়েছেন তারা।
আমেরিকার প্রবাসী টম ২০১৯ সালে বাংলাদেশে আসেন ঘুরতে। বন্ধুর আমন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে যান আর সেখানে মিষ্টিকে দেখতে পান তিনি।
সুন্দরী মিষ্টিকে দেখেই পরিচিত হবার লোভ সামলাতে পারেননি টম। পরিচয়ের সূত্র ধরেই মাঝে মধ্যে হায়-হ্যালো এরপর ফেসবুক ফ্রেন্ড তারপর নিয়মিত দুজনের ফোনে কথা হতো।
একপর্যায়ে মিষ্টিকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন টম। সে সময় মিষ্টি তেমন পাত্তা দেয়নি। পরে টমের রোমান্টিকতা দেখে প্রেমে পরে যান মিষ্টি।
এরপর দুজন দুজনের প্রেমে মশগুল হয়ে যান। একপর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু মিষ্টির পরিবার বিয়েতে রাজি ছিল না। পরে তারা পরিবারকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। এরপর অবশ্য মিষ্টির পরিবার মেনে নিয়েছিল।
মেনে নিবেই না কেন? টমের মতো মেধাবী বিজনেস ম্যানকে কে না চাইবে?
ইতোমধ্যেই টম আমেরিকার একজন সফল বিজনেসম্যান এবং বিদেশে বেশ কয়েকটি ইন্ডাস্ট্রি ও ক্লাব গড়ে তুলেছেন। তবে মিষ্টিকে বিয়ে করার আগে টম প্রথম বার বিয়ে করেন ২০০১ সালে।
সে সময় এক অ্যামেরিকান নারীকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই স্ত্রী প্রায় ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালে মারা যান।
প্রথম বিয়ের পর প্রায় ২০ বছর সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিয়ে করেননি টম। এমনকি স্ত্রীর শোক ও সন্তানের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সিঙ্গেল ফাদার হিসেবেই কাটতে থাকে তার দিন।
তারপর হঠাৎ বাংলাদেশে ঘুরতে এসে জীবন পাল্টে যায় তার। কয়েকজন বন্ধুর আমন্ত্রণে ২০ বছর পর দেশে ঘুরতে আসেন তিনি। পেয়ে যান তার শেষ জীবনের সঙ্গী মিষ্টিকে।
বিয়ের পর দুজনেই পাড়ি জমান মার্কিন মুলুকে। সেখানেই সুখে কাটছে তাদের দিন।সত্যি ভালোবাসা মানে না কোনো বয়স, কোনো সময়, কোনো বেড়াজাল। এর বাস্তব উদাহরণ টম ও মিষ্টি ইমাম দম্পতি।