বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, যা চলচ্চিত্র শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করে, ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অভিনেতা মিশা সওদাগর সভাপতি এবং মনোয়ার হোসেন ডিপজল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সরকার পতনের পর থেকে সমিতির কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। এবার সংগঠনটিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন সভাপতি মিশা সওদাগর, যা চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মিশা সওদাগর সম্প্রতি এক বিবৃতিতে শিল্পী সমিতির নীতিমালায় আসন্ন পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "শিল্পী সমিতি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এখানে থেকে কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমিতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে সমিতির কাজ পরিচালনা করার বিষয়ে তিনি পরিষ্কার অবস্থান নেন।
শিল্পী সমিতির নীতিমালায় যে পরিবর্তন আসছে, তা মূলত শিল্পীদের সুবিধার্থে করা হচ্ছে বলে জানান মিশা। কিছু নিয়ম-কানুন এবং কোটেশনের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, যা শিল্পীদের পেশাগত জীবনকে আরো সহজতর করবে। তিনি বলেন, "আমরা কিছু কোটেশন পরিবর্তন করছি, যা শিল্পীদের অধিকারের সুরক্ষা ও সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এতে সদস্যদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং শিল্পীদের পেশাদার জীবন আরো উন্নত হবে।"
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে মিশা বলেন, "বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে আমাদের লক্ষ্য হল নতুন কৌশল গ্রহণ করে এ শিল্পের পুনর্জাগরণ ঘটানো। আমরা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে চাই। এর জন্য দরকার নীতিমালা পরিবর্তন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা।"
এছাড়া তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দেশের চলচ্চিত্রে নতুনত্ব আনা, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন, এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব নিয়ে তিনি কথা বলেন। "আমরা এখন এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে আমাদের মানসম্মত কাজ করতে হবে। এজন্য শুধুমাত্র প্রযোজক বা পরিচালকদের নয়, শিল্পীদেরও উদ্যমী হতে হবে," বলেন মিশা।
মিশা সওদাগর আরও বলেন যে, তিনি একটি শক্তিশালী শিল্পী সমিতি গড়তে চান, যা শিল্পীদের অধিকার রক্ষা করবে এবং শিল্পীদের জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে, সমিতির কার্যক্রম আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। এতে শিল্পীরা তাদের মতামত প্রদান করতে পারবে এবং সংগঠনের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজলও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে তার পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য শিল্পীদের জন্য আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। আমরা চাই, বাংলাদেশি চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত হোক এবং এর জন্য দরকার সবার সহযোগিতা।"
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই পরিবর্তনের উদ্যোগ চলচ্চিত্রাঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। মিশা সওদাগর এবং ডিপজলের নেতৃত্বে শিল্পী সমিতি নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে শিল্পীদের অধিকার এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।