এক্সক্লুসিভ
সক্রিয় কালোবাজারি, ১৯০ টাকার টিকিট ৮০০ টাকা
হুমায়ুন কবির মাসুদ:
সাখাওয়াত হোসেন কচি, পরিবারের ৪ জন সদস্য নিয়ে বসবাস করেন রাজধানীর উত্তরা এলাকায়। করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদে বাড়ি যেতে পারেন নি। তাই এবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ করতে গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভোগান্তির ভয়ে স্বশরীরে জামালপুরের টিকিট কাটতে যাননি কচি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর বিড়ম্বনা এড়াতে অনলাইনে রেলের টিকিট কাটার চেষ্টা করেন, কিন্তু সার্ভার সমস্যায় টিকিট সংগ্রহ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে বুধবার কমলাপুর স্টেশনে এসে টিকিট কাটার চেষ্টা করছিলেন এই বেসরকারি চাকরিজীবি। এরমধ্যেই একজন এসে ধরা দেন তার কাছে। প্রশ্ন করেন কোথায় যাবেন?
জামালপুর বলা মাত্রই টিকিট দেখান অজ্ঞাত ওই টিকিট ব্ল্যাকার। ১৯০ টাকার টিকিটের দাম হাঁকেন এক হাজার টাকা। দরদাম করে তাকে ৮০০ টাকায় রাজি করান কচি। দেরি না করে ৩ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ৪টি টিকিট কিনে ফেলেন।
দূরবীন নিউজের সঙ্গে আলাপ হয় কচি নামের এই যাত্রীর। তিনি বলেন, আমার এ কাজটি কখনও সঠিক হয়নি। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে ২৪ ঘন্টায়ও মানুষ টিকিট পাচ্ছেন না, আবার অনলাইনে সার্ভার বিড়ম্বনার জন্যও টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ঈদে যেভাবেই হোক বাড়ি যেতে হবে। তাছাড়া যার কাছ থেকে টিকিট কিনেছি, সে যে কোন ভাবেই হোক এসব টিকিট মানুষের কাছে বিক্রি করত। তাই অনৈতিক হওয়ার পরও আমি এ কাজটি করেছি।
এ বিষয়ে অজ্ঞাত ওই টিকিট ব্ল্যাকারের সঙ্গে কথা বলার আগেই তিনি স্টেশন থেকে উধাও হয়ে যান।
আদামদায়ক এবং অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে দুর্ঘটনা কম হওয়ায় ঈদযাত্রায় মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে ট্রেনযাত্রা। তবে ঈদ এলেই প্রতিবারই সংবাদ শিরোনাম হয় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের ভোগান্তি এবং অনলাইনে টিকিট না পাওয়ার বিড়ম্বনায় পড়ে বাধ্য হয়েই ব্ল্যাকারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। যা উসকে দিচ্ছে অনিয়ম-অন্যায়কে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
