এক্সক্লুসিভ


কি এই মাঙ্কি-পক্স?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ মে ২০২২, ০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার

কি এই মাঙ্কি-পক্স?

হাসান শাহারিয়ার: করোনা মহামারী কাটিয়ে উঠার আগেই পশ্চিমা দেশ গুলোতে প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এক বিরল সংক্রমণ, যার নাম মাঙ্কি-পক্স । আমরা গুটি বসন্তের সাথে পরিচিত, বলা যায় এরা একই পরিবারের সদস্য । ইতিমধ্যে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, ইতালি আরও কয়েকটি পশ্চিমা দেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে । মাঙ্কি পক্সের সাথে কি আপনি পরিচিত? না হলে চলুন জেনে নেই মাঙ্কি পক্সের বিষয়ে ।


মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাঙ্কি পক্স রোগটি দেখা যায় । তবে সংক্রামণটি গুটি বসন্তের মত ছোঁয়াচে নয় এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস অনুযায়ী রোগটিতে আক্রান্ত হলে কয়েক সপ্তাহের মাঝে সুস্থ হয়ে যায় । তবে এই রোগে আক্রান্ত হলে বাহ্যিক অবস্থা বেশ কুৎসিত লাগে । গুটি বসন্তও এর তুলনায় সহনীয় । রোগটির নামকরণ করা হয় ১৯৫৮ সালে । গবেষণার জন্য রাখা বানরদের উপনিবেশে এই জাতীয় পক্স দ্বারা আক্রান্ত হয় সেই উপনিবেশের দুটি বানর । তবে, মাঙ্কিপক্সের প্রধান উৎস এখনও অজানা । তবে ধারণা করা হয় আফ্রিকান ইঁদুরগুলো এই সংক্রমণের পিছনে মূল ভূমিকা রেখেছিল। মানুষের মধ্যে মাঙ্কিপক্সের প্রথম সংক্রমণ ধরা পরে ১৯৭০ সালে । আফ্রিকার কঙ্গোতে যখন গুটিবসন্ত নির্মূল করার প্রচেষ্টা চলছিল সে সময় সময় মাঙ্কিপক্স মানুষের শরীরে প্রথম শনাক্ত হয়। তবে এর পর বহু বছর এই রোগে আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি । ৪০ বছর পর ২০১৭ সালে নাইজেরিয়ায় মাঙ্কিপক্স পুনরায় ফিরে আসে । এরপর থেকে, নাইজেরিয়ায় ৪৫০ জনেরও বেশি লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাঙ্কি পক্সের একটি প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল । যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন লোক তাদের পোষা কুকুরের থেকে এই রোগে আক্রান্ত হয় । আফ্রিকার বাইরে সেই বারই প্রথম এই রোগটি শনাক্ত হয়েছিল । সরাসরি এবং দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শে থাকলে ভাইরাসটি শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা । এছাড়া, সংক্রামিত ব্যক্তির তরল বা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার পণ্য যেমন বিছানা বা পোশাকের সাথে সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে মাঙ্কিপক্স ছড়াতে পারে। 


মাঙ্কি পক্সের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ জ্বরের মতো হয়, যেমন শরীর গরম, ঠান্ডা লাগা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং পেশী দুর্বল হয়ে যায় । এরপর লসিকাগ্রন্থি যা শরীরকে সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে তা ফুলে যায়। গুটিবসন্ত ও মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণের তফাৎ হল ফোলা লসিকাগ্রন্থির বিকাশ। 


এর পরে মুখের ভিতর থেকে শুরু করে হাতের তালু এবং পায়ের তলায় সহ শরীরের সকল জায়গায় ফুসকুড়ি হয়।লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের অধ্যাপক জিমি হুইটওয়ার্থ সংক্রমণের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ে বলেন , "এই রোগের কোন ওষুধ নেই । চিকিৎসা বলতে রোগীর সেবা করাই হতে পারে । তবে এই রোগের একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যায় যা সংক্রামণের বিকাশ রোধ করতে পারে।" 



জনপ্রিয়