আন্তর্জাতিক
যেসব কারণে ইরানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে না অনেক মুসলিম দেশ

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন আলোচনায়- মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন ইরানকে অনেক মুসলিম রাষ্ট্র প্রকাশ্যে সমর্থন করে না? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি ধর্মীয় আবেগের চেয়ে অনেক বেশি জড়িত কৌশলগত বাস্তবতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে।
প্রথমত, শিয়া–সুন্নি বিভাজন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ইরান শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, অন্যদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি মতাদর্শ অনুসরণ করে। এই মতপার্থক্য কেবল ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপও নিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা পুরো অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাদের আশঙ্কা, ইরান আরও শক্তিশালী হলে তা নিজেদের শাসনব্যবস্থা ও প্রভাব বলয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তৃতীয়ত, সামরিক ও নিরাপত্তা নির্ভরশীলতা। উপসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্র সরবরাহ ও গোয়েন্দা সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর। ফলে ইরানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়া তাদের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বড় একটি বিষয়। তেল রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিলে অন্য দেশগুলোকেও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইরানকে সমর্থন বা বিরোধিতা- দুই ক্ষেত্রেই মুসলিম দেশগুলোর সিদ্ধান্ত মূলত ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক হিসাব–নিকাশের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
খামেনির হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: পুতিন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর কাছে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।

‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এ এক মিনিটে খামেনিসহ ৪০ শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যু
ইসরায়েলের দাবি, ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রথম দফার হামলায় এক মিনিটের মধ্যে ইরানের ৪০ জন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য জানায়।

শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধাক্কা: যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হারাল ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

আমিরাতে ১৩৭ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৯ ড্রোন নিক্ষেপ ইরানের, বিমানবন্দরেও আঘাত
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৯টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।


.jpg)


.jpg)
