আন্তর্জাতিক


মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী । ছবি: রয়টার্স


মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বহু দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ত্যাগ করুন।’

 

সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

 

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত মার্কিন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

 

রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, দুটি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হেনেছে এবং এতে আগুন লাগে। পরে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

 

এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়ালেও থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জেরুজালেমও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তেহরান ও বৈরুতে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।

 

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটলেও সম্প্রচারে বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ইরানে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’।

 

অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরমার্কিন নাগরিকমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য আমরা অপেক্ষা করছি: আরাঘচি

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে এবং এমন কোনো অভিযানে ওয়াশিংটনকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা, ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরান বাহরাইনের রাজধানী মানামা–তে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি।

মধ্যপ্রাচ্যে কেন ক্রমেই ‘বন্ধুহীন’ হয়ে পড়ছে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে ইরান কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই ‘বন্ধুহীন’ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে?

খামেনির মৃত্যুতে ইরানি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না: শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এর ফলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি।