জাতীয়
সম্রাট আকবর, পহেলা বৈশাখ ও বাঙালি সংস্কৃতি
হুমায়ুন কবির মাসুদ:
সম্রাট আকবরের পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত মন দোলানো নানা বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ পালন করে আসছে বাঙালি জাতি। তাদের প্রাণের উৎসবগুলোর মধ্যে একটি বাংলা নববর্ষ। তবে অনেকেরই হয়তো জানা নেই, কীভাবে ঘটলো এই বাংলা বর্ষের প্রচলন। চলুন জেনে আসা যাক-
পহেলা বৈশাখের ইতিহাস:
বাংলা সালের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিবঙ্গের মানুষের কাছে ঈদের মত। আনন্দমুখরভাবে, উল্লাসের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। এছাড়া ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালি জাতিরাও এ উৎসব পালন করে থাকেন।
বাঙালি জাতির জন্য ধর্ম,বর্ণ,শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের জন্য দিনটি সার্বজনীন লোকউৎসব হিসেবে বিবেচিত। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি মোতাবেক ১৪ ই এপ্রিল অথবা বিশেষ কোন ক্ষেত্রে ভারতের কিছু এলাকায় ১৫ এপ্রিল এ উৎসব পালন করা হয়।
প্রাচীন ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাটদের আমলে যারা ক্ষমতায় থাকত তারা হিজরী সনের পঞ্জিকা দেখে কৃষি পণ্যের উপর ধার্য করা খাজনা আদায় করত। কিন্তু সেভাবে খাজনা আদায় করলে তাতে তৈরি হত সমস্যা কেননা হিজরি সন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। কৃষকরা ফসল কাটার আগেই খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য হত।
এ সংকট দূর করতে সম্রাট আকবরের শাসনামলে সাধারণ কৃষকের কথা চিন্তা করে এবং খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা আনতে বাংলা নববর্ষের প্রণয়ন করা হয়।
তৎকালীন সময়ে বাংলার অন্যতম বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সম্রাট আকবরের আদেশে সৌর সন এবং আরবি হিজরি সনকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলা সনের পঞ্জিকা বিনির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৫৮৫ সালের ১০ কিংবা ১১ মার্চ থেকে বাংলা মাসের সূচনা শুরু হয়। তবে গণনা পদ্ধতি চালু করা হয় বাংলার অন্যতম শাসক মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকেই।
প্রথমে এই সনের নামকরণ করা হয় ফসলি সন যা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন হয়ে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি পায়। সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে পহেলা বৈশাখের আয়োজন শুরু হয়। তবে সে সময়ে চৈত্র মাসের শেষ দিনে প্রত্যেকটি কৃষককে অথবা চাষীকে বাংলা মাসের শেষ দিনের মধ্যে জমিদারের কাছে সকল ধরণের খাজনা, মাশুল এবং শুল্ক পরিশোধ করতে হত। সকলের খাজনা পরিশোধ হওয়ার পর পহেলা বৈশাখে জমির মালিকরা তাদের নিজের অঞ্চলের গ্রামবাসীদের নানা ধরণের মিষ্টি দ্বারা আহার করিয়ে তাদের আপ্যায়ন এবং সমাদোর করত। তাছাড়া এ দিনটিতে ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা সকলে নানা ধরণের আনন্দ এবং উৎসবে অংশগ্রহণ করত।
বর্তমান সময়ে পহেলা বৈশাখ:
বর্তমান সময়ে আগের চেয়ে আধুনিক এবং মানসম্মত উপায়ে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। বাংলার শেষ মাস চৈত্রের শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। নানা ধরণের আয়োজনে এবং নানা ধরণের ছবি অঙ্কণের মাধ্যমে এ দিনটিকে উদযাপন করা হয়। আর পহেলা বৈশাখে রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগের জন্য সকাল শুরু হয় রমনার বটমূলে পান্তা আর ইলিশ খাওয়ার মাধ্যমে। আর গ্রামের সহজ সরল মানুষরা চেষ্টা করেন নানা ধরনের ভর্তা এবং পান্তা ভাতের সমন্বয়ে দিনটি শুরু করার মাধ্যমে।
তাছাড়া দুপুর পড়ার সাথে সাথে গ্রামের ছেলেরা বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হওয়া মেলায় অংশগ্রহণ করে দিনটিকে উদযাপন করে। এছাড়াও গ্রামের সাধারণ দোকানি এবং ক্রেতাদের মধ্যে সারাবছরের যে লেনদেন হয়েছে তা পহেলা বৈশাখের দিনটিতে চুকিয়ে নানা ধরণের খাবার খাইয়ে বিক্রেতা ক্রেতাদের মন জয় করান। এ প্রচলন রয়েছে শহরেও। একে হালখাতা বলা হয়ে থাকে বাঙালি সংস্কৃতিতে।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বাঙালির প্রাণের পহেলা বৈশাখ। বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর দিন। ‘মন্দ সবকিছুকে ভেলায় ভাসিয়ে দিয়ে নতুন বছর সুন্দর এবং স্বাচ্ছ্যন্দপূর্ণ হোক। জীর্ণ পুরাতন যা কিছু আছে সব ভেসে যাক, ধুয়ে ও মুছে যাক সকল গ্লানি’ এভাবে প্রত্যেকটি বাঙালি আহ্বান জানায় বিদায়ী সূর্যের কাছে ।
দূরবীন নিউজের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশের সকল বাঙালিকে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ বঙ্গাব্দের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
৫ আগস্ট জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দেবে সরকার
আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালন করবে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার, সংসদীয় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন
দেশে চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
.jpg)



