নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজধানী ঢাকার যান চলাচলব্যবস্থা প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। শহরজুড়ে বেড়েছে যানজট। একদিকে যেমন রোদের তীব্র প্রখরতা অন্যদিকে জ্যামে বসে থাকার কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর। ফলে অনেক কর্মজীবী ব্যক্তিরাই সঠিক সময়ে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে পড়েন শঙ্কায়।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এর ফলে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা যায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি।

প্রায় দুই বছর পরে মঙ্গলবার থেকে সশরীরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু হয়েছে। এজন্য এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যেতে দেখা যায় অভিভাবকদের। পাশাপাশি অফিসগামী ও সাধারণ মানুষসহ রাস্তায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। আর বাড়তি মানুষের চলাচলের কারণে রাজধানীর সড়কের যানজটে আরও বাড়তি মাত্রা যোগ হয়।

citytouch 728-X-90

রাজধানীর মৌচাক থেকে গাবতলী যাওয়ার পথে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যানজটের দেখা মিলেছে। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হলো গাবতলী থেকে নিউমার্কেট রোড। এ সড়কের পাশে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।

এদিকে মগবাজার এলাকায় ওয়াসার কাজ করার কারণে রাস্তা কাটা হয়েছে। এতে মগবাজার থেকে বাংলামোটরগামী সব পরিবহন ওয়্যারলেস মোড় থেকেই ইউটার্ন নিয়ে উড়ালসেতু হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে তীব্র যানজট।

মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, তালতলা, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, সাতরাস্তার বিভিন্ন অংশে যানজট চোখে পড়ে।

বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ও সর্ববৃহৎ তিলোত্তমা মহানগরী ঢাকার যানজট পরিস্থিতি এমন ভয়াবহতার ঘুর্ণাবর্তে আবর্তিত হচ্ছে যে, একান্ত বাধ্য না হলে কোন সুস্থ মানুষ এখন আর ঢাকায় যেতে চাচ্ছে না।

সেদিনের সবুজে ঘেরা গাছ-গাছালী আর পাখ-পাখালির সুমধুর কলকাকলিতে মুখর, মসজিদের শহর ও প্রাচীন বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক, মোগল-বৃটিশদের রেখে যাওয়া স্মৃতিবিজড়িত মন জুড়ানো নজরকাড়া সব ইমারত, কীর্তির স্মারক, অধুনা নির্মিত সুরম্য অট্টালিকা সব মিলে স্বপ্নের নগরী ঢাকা আজ আর সুস্থ-সুন্দর পরিবেশে ঘুরে-ফিরে দেখার জন্য নয়; মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় হেসে খেলে বেড়ানোর জন্য নয়। সারা ঢাকা ছেয়ে আছে শুধু মানুষ আর গাড়িতে।

লক্ষ্য করা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর থেকে রাস্তায় যাত্রী সংখ্যা বেড়ে গেছে। সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালক বলেন, সাধারণত দিনে ৩-৪ হাজার টাকা আয় করি। কিন্তু গত চারদিন ধরে রাজধানীতে যানজটের কারণে এক হাজার টাকাও আয় করতে পারছি না।

সকালে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট লেগে যায়। উত্তরা থেকে খিলক্ষেত, বনানী হয়ে যাটজট ছড়িয়ে পড়ে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত। উল্টোদিকে জাহাঙ্গীর গেট থেকে বনানী পর্যন্ত ছিল প্রচন্ড যানজট। এসময় কিছুটা থেমে থেমে গাড়ি চলাচল করলেও সড়কে যাতায়াতকারীদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড-রামপুরা রোডে যাতায়াতকারীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানজটের কারণে দিনের প্রথম প্রহরে অফিসগামী মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। এদিন সকাল ৮টার দিকে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি সিগন্যাল পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪৫ মিনিট। এর পরও যানজট কমেনি।

রাজধানীতে যানজট কমাতে কয়েকটি সড়কে ইউটার্ন ব্যবস্থা চালু করা হলেও সুফল পাওয়া যায়নি। যাত্রী, চালক ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ ইউটার্ন চালুর পর যানজট কমার বদলে উল্টো বেড়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, সব ক’টি ইউটার্ন চালু হলে সুফল মিলবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তার প্রসস্ততা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ না করে ইউটার্ন করা হলে হিতে-বিপরীত হবে।