হুমায়ুন কবির মাসুদ:

মানুষের জীবন ধারণের জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান পানি। পানি ছাড়া জীবন একদমই অকল্পনীয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির নাব্যতা কমে আসায় ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সবেমাত্র গ্রীষ্মের শুরু! এর মধ্যেই খবরের শিরোনাম হতে শুরু করেছে পানি সংকট নিয়ে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। এ অবস্থায় পানির ঘাটতি পূরণে কেউ কেউ পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করছেন। ফলে পরবর্তীতে কলেরা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে মানুষের মাঝে।

citytouch 728-X-90

বিশুদ্ধ বা সুপেয় পানির অভাব বাংলাদেশে ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের যত মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে। পানিবাহিত রোগের প্রভাবে মৃত্যুর পরিমান এখনও বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করছে হাজারো মানুষ। এদের অধিকাংশই আবার শিশু।

দেশের উপকূলীয় ১০ টি জেলা ছাড়াও রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রায় সব জেলা শহরগুলোতে গরমের সময়ে পানির সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে।

জামালপুর জেলা সদরের বাসিন্দা রায়হান সৌরভ। বাস্তবিক জীবনের পানি সংকটের ঘটনা বলতে গিয়ে বলেন, ছোট বেলায় দেখেছি পানির জন্য চাপকলই যথেষ্ট ছিল। তখন পাইপের গভীরতা ছিল ৩০-৩৫ ফিট। কিন্তু বর্তমান সময়ে পানি পেতে গেলে কমপক্ষে ১০০-১৫০ ফিট লেয়ারে যেতে হচ্ছে, কিন্তু তাতেও মিলছে না পানি।

তিনি আরও জানান, পানির এ সংকটে নানা উপায়ে পানি সংরক্ষণ করলেও সে পানি গ্রীষ্মের সময়ে ১ মাস ব্যবহারের পর শেষ হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে মিনারেল ওয়াটার কিনে খেতে প্রতি মাসে ৩-৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আবার কোথাও ওয়াসার পানি সাপ্লাইয়িংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে পানি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ।

চট্রগ্রাম নগরীর লালখান এলাকার বাসিন্দা গুলনার বেগম দূরবীন নিউজকে বলেন, ‘শেষ এক দেড় মাস যাবৎ ঠিকমত পানি পাইনি। ঘরের মধ্যে ৭ জন মানুষের বসবাস। প্রতিদিন ২০-২৫ লিটার পানি কিনে নিজেদের খাওয়া এবং রান্নার কাজ করতে হয় । পানির পেছনে মাসে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো ওয়াসার পানি না পেলেও প্রতিমাসে বিল ঠিকই পরিশোধ করতে হয়।'

পানির এমন অবস্থা চলতে থাকলে খুব অচিরেই দেশে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে পানিবাহিত নানান রোগের সর্ব্বোচ্চ দৃষ্টান্ত দেখবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।