
ঈদ এলেই সড়কে যেন বেহাল দশা নেমে আসে। ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, এবার ঈদে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে। তবে আমাদের পরিবহন খাতে ১৩ থেকে ১৪ লাখ মানুষের যাতায়াতের সক্ষমতা রয়েছে। সে হিসেবে ঘাটতি থেকে যায় ১৬ লাখ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার। ফলে এবারও ঈদযাত্রায় মারাত্মক চাপ পড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। তাই শেষ দিকে সবাই বাড়ি না ফিরে ২৫ এপ্রিল থেকে ঈদ যাত্রা শুরু করলে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলানো যাবে।
ঈদযাত্রা নিয়ে রোববার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এ সময় ঈদ যাত্রায় অসহনীয় যানজট, যাত্রী ভোগান্তি, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর করোনা মহামারি ছিল, এবার সেটা কমে আসায় ঈদে দ্বিগুণ মানুষ গ্রামে যাবেন। এবার এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তাই যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রয়োজন বাড়তি নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সতর্কতা, সকল পথের প্রতিটি যানবাহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করা। কিন্তু যানজট ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে গণপরিবহনে সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবারের ঈদযাত্রায় নারকীয় পরিস্থিতি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং যাত্রীদের চাপ থাকায় গণপরিবহনগুলো বাড়তি ভাড়া আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকার যদি তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নেয় তাহলে এবার ঈদে পথে পথে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়ে যাবে। তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা করে মোজাম্মেল বলেন, এবারও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দ্বিগুণ থাকায় সড়ক ও নৌদুর্ঘটনার সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বেশি ভাড়া আদায়ের লোভে প্রতিবছর সড়ক ও নৌপথে ফিটনেসবিহীন যানবাহন নামানো হয়, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রীবহন করা হয়, লঞ্চগুলো যাত্রী বোঝাই থাকলেও তাদের নিরাপত্তায় নৌপথে পর্যাপ্ত বয়া-বাতি ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকে না। এছাড়া একজন চালক বিশ্রাম ছাড়া টানা ১০ থেকে ১৫ ঘন্টা গাড়ি চালায়, সড়কে নামানো হয় অদক্ষ চালকদের। এসব কারণে ঈদ এলেই দুর্ঘটনা-প্রাণহানি বেড়ে যায়। সড়ক ও নৌদুর্ঘটনায় প্রতিবছর ঈদে কয়েকশ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে ২০২১ সালে ঈদুল ফিতরে ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত ৬২২ জন আহত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমরা দেখেছি ২০১৮-১৯ সালে ঈদে এক কোটি ১৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। করোনাকালেও ৬০ লাখ মানুষ ঈদযাত্রা করেছে। কিন্তু এবার প্রতিদিন ৩০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে। অথচ আমাদের সক্ষমতা রয়েছে ১৩ থেকে ১৪ লাখ মানুষের। ১৬ লাখের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এই চাপ কমাতে ও ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ঈদের ছুটিকে কাজে লাগাতে হবে। শেষদিকে সবাই বাড়ি না গিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে যাত্রা শুরু হলে সেখানে একটা ব্যবস্থাপনা হবে।



