
‘প্রায় দুই মাস পর আজ মাঠে আবার খেলতে পারছি, খুব ভালো লাগছে। এতদিন সময় কাটতো না। অস্থির লাগতো একটু মাঠে আসার জন্য, বন্ধুদের সাথে খেলার জন্য। কিন্তু এখানে এলে পুলিশ আঙ্কেলরা তাড়িয়ে দিত। আমাদের এখানে খেলাধুলার আর কোন জায়গা নেই, তাই ঘরে বসে থাকতে হত।’ কথাগুলো বলছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইউহান খান। কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠের কাছাকাছি একটি বাসায় মা বাবার সাথে থাকে এই শিশুটি।
তেঁতুলতলা মাঠটি স্থানীয়রাই ব্যবহার করবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা আসার পরদিন শুক্রবার সকাল থেকেই এই ময়দানটি শিশুদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠে। ৫-৬ জন বন্ধু নিয়ে মাঠে খেলছিল ইউহান। তখনই দূরবীন নিউজের সঙ্গে তার আলাপ হয়। শুধু ইউহান নয়, তার মত আরও অনেকই শুক্রবার খেলায় মেতে উঠেছে এই মাঠে। যাতায়াত শুরু করেছেন স্থানীয় মানুষেরাও। মাঠে বা তার আশপাশে কোন পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়নি।
কিছুদিন আগেই এই মাঠে পুলিশ থানা ভবন নির্মাণ শুরু করলে ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সৈয়দা রত্না। পরবর্তীতে তাকে ও তার ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় কলাবাগান থানা পুলিশ। এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা এবং মানবাধিকার কর্মীরা। পরে রত্না ও তার ছেলেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
শুক্রবার রত্না বলেন, অবশেষে এই শিশুদের জয় হলো, আমাদের জয় হলো। আমার অটুট বিশ্বাস ছিল প্রধানমন্ত্রী নজরে বিষয়টি এলে অবশ্যই মাঠটি ফিরে পাবম, তাই হল। প্রধানমন্ত্রীর সুবিবেচনায় আমরা এই মাঠ ফিরে পেলাম। এখন আশা একটাই মাঠটি কারও মালিকানায় না থেকে স্বতন্ত্রভাবে যুগ-যুগ ধরে টিকে থাকুক।
তেঁতুলতলা মাঠটির আয়তন ২০ শতাংশ জায়গায়। এর মালিকানা ছিল একজন বিহারির নামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি। এরপর থেকে সে জায়গাটি ফাঁকাই পড়েছিল। সেখানে স্থানীয় শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করত, হতো জানাজা, ঈদের নামাজসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানও। সরকারি খাসজমি হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় এই ফাঁকা জায়গাটিতে কলাবাগান থানা করতে বরাদ্দ দেয় সরকার। এরপর থেকেই স্থানীয়দের কাছ থেকে এই জায়গাটি খেলাধুলার জন্য ফাঁকা রাখার দাবি উঠে।
নানা জল্পনা-কল্পনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটে। মাঠটির মালিকানা পুলিশের হলেও আপাতত সেখানে থানা ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। আগে এলাকাবাসী যেভাবে মাঠটি ব্যবহার করতেন, সেভাবেই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে পুলিশ।


