ভারতের সঙ্গে কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামী ৫-৭ সেপ্টেম্বর তিনি ভারত সফরে যাবেন। এই সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে CEPA স্বাক্ষরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারেও মত দিয়েছেন সরকার প্রধান।
এর আগে গত বছরের ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী CEPA সম্পাদনের যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
সে অনুযায়ী বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট এবং ভারতের পক্ষে সেন্টার ফর রিজিওনাল ট্রেড বিস্তারিত যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে। যা চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬শে জুলাই ভারতের নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান ভারতের বাণিজ্য সচিব বি. ভি. আর. সুভ্রামনিয়ামের সাথে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সে-সময়ও ভারতের বাণিজ্য সচিব চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখান।
CEPA মূলত ফ্রি টেড এগ্রিমেন্ট মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মত। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্ভাব্য CEPA, সাধারণ FTE থেকে কিছুটা ভিন্ন।
কারন দুই পার্শ্ববর্তী দেশের অর্থনৈতিক এই চুক্তিতে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা বিনিময়, মেধাস্বত্ব, ই-কমার্সসহ আরও অন্যান্য দিক অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
CEPA-র আওতায় আসতে পারা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হবে। সেবা এবং বিনিয়োগ সহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।
ঢাকা-দিল্লির যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৯০% বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া জিডিপিতে ১.৭২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি আয় ১৮৮% বাড়তে পারে, সেই সাথে দেশটির জিডিপিতে ০.০৩% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
গত অর্থবছর ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রথমবারের মতো প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারে।
CEPA স্বাক্ষরিত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উভয় দেশের এই রপ্তানি আয় দ্বিগুণের কাছাকাছি হবে।
আবার এর মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পারস্পরিকভাবে লাভবনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের জন্য আন্তঃবিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর ফলে উভয় দেশ পরস্পরের উন্নয়নে একে-অপরের দক্ষতা ও সম্পদ কাজে লাগাতে পারবে। স্বাভাবিকভাবেই নতুন কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আনুষ্ঠানিক আলাপ শুরুর আগে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের কী কী সুবিধা চায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে একসাথে আলোচনা করা জরুরি বলে মনে করেন দেশীয় অর্থনীতিবিদরা।
ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।
তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে এই সুবিধা থাকবে না। তাই লম্বা সময়ের জন্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা নিশ্চিত করা CEPA আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এর পাশাপাশি ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।