জাতীয়
নিজ গ্রামে সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল চারটা ২০ মিনিটে তার জন্মভূমি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পেমই গ্রামে নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সাহাবুদ্দীন আহমদের ভাতিজা সোহরাব উদ্দিন বলেন, বেলা তিনটার দিকে হেলিকপ্টারে করে সাহাবুদ্দীন আহমদের মরদেহ কেন্দুয়া পৌরসভার আদমপুর এলাকার হেলিপ্যাড মাঠে নিয়ে আসা হয়। এরপর বিকেল চারটার দিকে পেমই গ্রামে নিজ বাড়িতে মরদেহ পৌঁছায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাহাবুদ্দীন আহমদের মরদেহ আবারও ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতারাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ সাহাবুদ্দীন আহমদকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জিয়া আহমেদ, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন খন্দকার, স্থানীয় সাংসদ অসীম কুমার উকিলের পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. আসাদুল হক ভুইয়া, বিএনপির পক্ষে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম প্রমুখ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়।
সাহাবুদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল আহমদ জানান, হেলিকপ্টারে তার বাবার মরদেহ সরাসরি ঢাকায় নিজ বাড়িতে নেওয়া হবে। এরপর রাতে মরদেহ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমাগারে রাখা হবে। আগামীকাল রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বনানী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।
সাহাবুদ্দীন আহমদের গ্রামের বাড়িতে জরাজীর্ণ দুটি টিনের ঘর আছে। ওই ঘরে সাহাবুদ্দীন আহমদের ভাই মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে সোহরাব উদ্দিন পরিবার নিয়ে বাস করেন।
এর আগে আজ সকালে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহাবুদ্দীন আহমদ শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৯২ বছর বয়সী সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। বছরটির ২৩ জুলাই তিনি আওয়ামী লীগের দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খুবই সীমিত, তবু তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার সততা এবং প্রজ্ঞা দ্বারা বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান জয় করেন। ১৪ নভেম্বর, ২০০১ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
এর আগে ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়, যা দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
সাহাবুদ্দীন আহমদের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত এই আইনবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম তালুকদার রিসাত আহমেদ। তিনি একজন সমাজসেবী ও এলাকায় জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
সাহাবুদ্দীন আহমদের স্ত্রীর নাম আনোয়ারা বেগম। তিনি তিনটি কন্যা ও দুটি পুত্র সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠা কন্যা ড. মিসেস সিতারা পারভীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। দ্বিতীয়া কন্যা মিসেস সামিনা পারভীন একজন স্থপতি। তার পুত্র শিবলী আহমেদ একজন পরিবেশ প্রকৌশলী। আরেক পুত্র সোহেল আহমেদ কলেজ ছাত্র। সর্বকনিষ্ঠা কন্যা সামিয়া পারভীন চারুকলার ছাত্রী।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ নেই: কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে- সড়কমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হলেও বাস টার্মিনালগুলোতে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আওয়ামী লীগ আমলের ভাতাভোগীদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি সংসদে
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি ভাতা ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। কুষ্টিয়া–১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ এ দাবি জানান।

‘মাননীয় স্পিকার’-এর বদলে ‘মাই লর্ড’, তবু সংসদে প্রাণবন্ত জবাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী শারমিন পুতুল
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্বোধন করতে গিয়ে ‘মাননীয় স্পিকার’-এর পরিবর্তে কয়েকবার ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেন সমাজকল্যাণ ও নারীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তবে পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবিধান অনুযায়ী ‘সংস্কার পরিষদ’-এর অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং এটি আইনে পরিণত হলে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

.jpg)
.jpg)






